কেশপুর কলেজে অশান্তি ও আর্থিক সংকটের জোড়া সঙ্কট, দিশেহারা শিক্ষক-ছাত্ররা

নিজস্ব সংবাদদাতা, কেশপুর: কেশপুর সুকুমার সেনগুপ্ত মহাবিদ্যালয় ক্যাম্পাসের পরিস্থিতি দিন দিন আরও ঘোরালো হচ্ছে। একদিকে তৃণমূলের গোষ্ঠীদ্বন্দ্বে তাণ্ডবে উত্তপ্ত হচ্ছে ক্যাম্পাস, অন্যদিকে এমন ভয়াবহ আর্থিক সঙ্কট যে ক্লাস চালানোই কঠিন হয়ে উঠেছে। দুটি সমস্যার চাপে কার্যত বিপর্যস্ত কলেজের স্বাভাবিক পরিবেশ।

ভারতের ছাত্র ফেডারেশনের অভিযোগ, তৃণমূলের দুই গোষ্ঠীর দ্বন্দ্বে কলেজ চত্বর বারবার অশান্ত হচ্ছে। পড়ুয়া ও কর্মীদের মধ্যে চরম নিরাপত্তাহীনতা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যেই সামনে এসেছে আর্থিক বরাদ্দের সংকট—কলেজের প্রতিদিনের খরচ মেটানোই দুষ্কর হয়ে পড়েছে, বেতন পরিশোধ করা তো দূরের কথা। গত মাসের বেতন না পেয়ে ইতিমধ্যেই আন্দোলনে নেমেছেন শিক্ষক-শিক্ষিকা ও অশিক্ষক কর্মীরা। মঙ্গলবার তাঁরা কলেজ প্রাঙ্গণে অবস্থান-বিক্ষোভ শুরু করেছেন।

কলেজে দুষ্কৃতী প্রবেশে তাণ্ডব, ভাইরাল ভিডিওতে চাঞ্চল্য

সম্প্রতি সোশ্যাল মিডিয়ায় একটি ভিডিও ভাইরাল হয়েছে। তাতে দেখা যাচ্ছে, এক দল যুবক হাতে বাঁশ-লাঠি নিয়ে কলেজের ভিতরে ঢুকে পড়ুয়াদের শাসাচ্ছে, হুমকি দিচ্ছে। রীতিমতো তাণ্ডব চলছে ক্যাম্পাসের মধ্যে।
এই ঘটনার পরেই এসএফআই দাবি করেছে—অবিলম্বে বহিরাগত তৃণমূলী দুষ্কৃতীদের প্রবেশ বন্ধ করতে হবে। ফিরিয়ে দিতে হবে কলেজে শান্তিপূর্ণ শিক্ষার পরিবেশ।

টিএমসিপির বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ—মারধর, শ্লীলতাহানি, রক্তপাত

এসএফআইয়ের আরও অভিযোগ, কলেজে তৃণমূল ছাত্র সংগঠন টিএমসিপি নিয়মিত জুনিয়র ছাত্রদের মারধর করছে। ছাত্রীদের শ্লীলতাহানিও নিত্য ঘটনা হয়ে দাঁড়িয়েছে বলে অভিযোগ তাঁদের। এমনকি কয়েকবার রক্তপাতের ঘটনাও ঘটেছে, দাবি এসএফআইয়ের। সংগঠনের অভিযোগ—প্রশাসন ও কলেজ কর্তৃপক্ষ যথাযথ ব্যবস্থা না নেওয়ায় পরিস্থিতি দিন দিন আরও ভয়াবহ হচ্ছে।

“চক-ডাস্টার খাতা নেই, নেই বেতন”—অধ্যাপকদের ক্ষোভ

ভূগোল বিভাগের এক অধ্যাপিকা বলেন,“পুজোর পর থেকেই পঠন-পাঠনের পরিবেশ নেই। উপস্থিতির খাতা থেকে চক-ডাস্টার—কিছুই নেই। তার উপর গত মাসের বেতনও মেলেনি।”
শিক্ষকদের অভিযোগ, প্রশাসন ও কলেজ কর্তৃপক্ষকে বারবার জানানো হলেও কোনও উদ্যোগ নেওয়া হয়নি।

ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষের দাবি—নিজের পকেট থেকে খরচ করতে হচ্ছে

ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ জানান, দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই কলেজের শোচনীয় আর্থিক অবস্থার মুখোমুখি হয়েছেন তিনি। কলেজে “ক্যাশ ইন হ্যান্ড” না থাকায় জরুরি খরচ তাঁকে নিজের পকেট থেকে মেটাতে হচ্ছে।
অক্টোবরের বেতন বকেয়া পড়ে রয়েছে, নভেম্বর নিয়েও অনিশ্চয়তা। ব্যাংক অপারেটর ও ডিডিও পরিবর্তন জরুরি হলেও “এসআই-সংক্রান্ত কাজ”-এর কারণ দেখিয়ে গভর্নিং বডির বৈঠক বারবার স্থগিত হচ্ছে। ডিপিআই, ভিসি, আইসি, ডিএম ও শিক্ষা দপ্তরকে জানালেও কোনও প্রতক্রিয়া মেলেনি বলে দাবি তাঁর।

সমাধান না হলে আরও বড় সংকটের মুখে0 কলেজ

এক দিনের জন্য ক্লাস বয়কট করে শিক্ষকরা আন্দোলনে সামিল হলেও পরিস্থিতি যেহেতু স্বাভাবিক হয়নি, তাই আশঙ্কা—সমস্যার দ্রুত সমাধান না হলে কেশপুর কলেজের সঙ্কট আরও গভীর আকার নিতে পারে।
ছাত্র, শিক্ষক, কর্মচারী—সকলেই এখন অপেক্ষায় প্রশাসনের কার্যকর হস্তক্ষেপের।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *