নিজস্ব প্রতিবেদন: দিল্লির জওহরলাল নেহরু বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রসংসদ (JNUSU) নির্বাচনে বাম জোট ব্যাপকভাবে জয় লাভ করেছে। চারটি কেন্দ্রীয় পদেই জয়ী হয়ে তারা। অখিল ভারতীয় বিদ্যার্থী পরিষদকে পর্যুদস্ত করে আবারও ক্যাম্পাসে নিজেদের রাজনৈতিক প্রভাব দৃঢ়ভাবে প্রতিষ্ঠা করেছে।
মাস সাতেক আগে, ২৮ এপ্রিল, ৯ বছরের খরা কাটিয়ে JNU ছাত্র সংসদ নির্বাচনে যুগ্ম সম্পাদকের পদে জিতে গিয়েছিল এবিভিপির বৈভব মীনা। সেবার ফলাফল দাঁড়ায় বামজোট–০৩, এবিভিপি–০১। সেই ফল এবার ঘুরিয়ে সম্পূর্ণ নিজেদের দিকে নিয়ে এসেছে আইসা, এসএফআই এবং ডিএসএফ জোট—৪টি আসনই জিতেছে তারা।
সভাপতি পদে জিতেছেন আইসার অদিতি মিশ্র, সহ-সভাপতি পদে জিতেছেন এসএফআইয়ের কে গোপিকা, সাধারণ সম্পাদক পদে ডিএসএফের সুনীল যাদব এবং যুগ্ম সম্পাদক পদে নির্বাচিত হয়েছেন আইসার দানিশ আলি। অদিতি মিশ্র ১,৯৩৭ ভোট পেয়েছেন, তিনি এবিভিপির প্রার্থী বিকাশ প্যাটেলকে ৪৪৯ ভোটে পরাজিত করেন। সহ-সভাপতি পদে কেরালার কে গোপিকা ৩,১০১ ভোট পেয়ে এবিভিপির তানিয়া কুমারিকে বড় ব্যবধানে হারান।
সাধারণ সম্পাদক পদে কেবলমাত্র লড়াই দিতে পারে এবিভিপি। এখানে বাম ছাত্র জোটের সুনীল যাদব ২৪ ভোটে এবিভিপি প্রার্থী রাজেশ্বর কান্ত দুবেকে হারান। যুগ্ম সম্পাদক পদে দানিশ আলি ২,০৮৩ ভোটে জয়ী হয়ে প্যানেলের ঝড়ো জয় সম্পূর্ণ করেন। ভোটার উপস্থিতি ছিল ৬৭%, যা ছাত্রছাত্রীদের সক্রিয় অংশগ্রহণকে প্রতিফলিত করছে বলেই মত রাজনৈতিক মহলের।
ভোটের প্রচারে অদিতি মিশ্র বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু তুলে ধরেন। তাঁর প্রচারের ইস্যুগুলি জুড়ে ছিল শিক্ষার নিম্নমুখী মান, ক্যাম্পাসে প্রবেশাধিকার সংকোচন এবং ছাত্রছাত্রীদের জন্য বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনার ক্রমবর্ধমান খরচ। তিনি “রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত” ফ্যাকাল্টি নিয়োগ, হোস্টেলে নজরদারি বৃদ্ধি এবং শিক্ষাখাতে তহবিল কমানোর সমালোচনাকে তুলে আনেন তাঁর প্রচারে। তাঁর অভিযোগ ছিল, এবিভিপি কর্পোরেট সমর্থনের উপর নির্ভর করে এবং উচ্চশিক্ষাকে সাধারণ ঘরের ছাত্রছাত্রীদের জন্য দামি করে তুলছে এই সরকার।
এই জয়কে “অন্তর্ভুক্তিমূলক ও গণতান্ত্রিক ছাত্র-রাজনীতির জনমত” বলে বর্ণনা করে অদিতি বলেন, ফলাফল প্রমাণ করে যে ছাত্রসমাজ কাঠামোগত সংস্কার ও জবাবদিহিমূলক নেতৃত্ব চায়।