নিজস্ব সংবাদদাতা, খড়গপুর: সামাজিক জাগরণের বার্তা নিয়ে পশ্চিম মেদিনীপুর জেলা গণনাট্য সংঘের ১৩তম জেলা সম্মেলনকে কেন্দ্র করে খড়্গপুর শহরে তৈরি হয়েছে সাংস্কৃতিক আবহ। এই আবহে “সময় হয়েছে নতুন খবর আনার” শীর্ষক এক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয় খড়্গপুরের গোলখুলি মণ্ডপে। সভায় উপস্থিত ছিলেন নাট্য আন্দোলনের কর্মী বিজয় পাল ও অধ্যাপিকা সঞ্চিতা সান্যাল।
সম্মেলন উপলক্ষে স্কুল পড়ুয়াদের নাটক, স্বল্প দৈর্ঘ্যের চলচ্চিত্র, গীতি–আলেখ্য, হিন্দি–বাংলা–তেলেগু ভাষার গান ও পথনাটক ঘিরে গত এক পক্ষকাল ধরে সাড়া ফেলেছে গোটা শহর। শহরের নানা প্রান্তে সাধারণ মানুষের অংশগ্রহণে এই কর্মসূচি কেবল সাংস্কৃতিক উৎসবে সীমাবদ্ধ থাকেনি, সমাজের নানা অবক্ষয়, অন্যায় ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে প্রতিবাদের ভাষাও হয়ে উঠেছে।
জেলা ও রাজ্য নাট্য আন্দোলনের কর্মী বিজয় পাল অনুষ্ঠানে প্রারম্ভিক বক্তব্যে বলেন, “বর্তমান সময়ে দেশ ও রাজ্যজুড়ে মত প্রকাশের স্বাধীনতার উপর আক্রমণ নেমে এসেছে। এর বিরুদ্ধে মানুষকে সংগঠিত হতে হবে। বিদ্যাসাগর ও রাজা রামমোহন রায় ছিলেন বাংলার নবজাগরণের পথিকৃৎ — তাঁদের আদর্শই আজকের দিনে আরও প্রাসঙ্গিক।” তিনি শুভবুদ্ধিসম্পন্ন নাগরিকদের উদ্দেশে আহ্বান জানান, “অন্যায়, ব্যভিচার, দুর্নীতি ও সামাজিক অবক্ষয়ের বিরুদ্ধে নিজের মতো করে প্রতিবাদের কণ্ঠস্বর তুলুন। আমরা সেই আন্দোলনের সঙ্গে থাকব। একদিন এইসব কণ্ঠস্বর মিলিত হয়ে গড়ে তুলবে নতুন সমাজ।”

অনুষ্ঠানের মূখ্য আলোচক অধ্যাপিকা সঞ্চিতা সান্যাল বলেন, “সমাজ বিকাশে সাংস্কৃতিক আন্দোলন অপরিহার্য। নাটক, গান, কবিতা বা চলচ্চিত্রের মাধ্যমে মানুষের হৃদয়ে সহজে পৌঁছে দেওয়া যায় সামাজিক বার্তা।” তিনি স্মরণ করান, “চল্লিশের দশকে বোম্বেতে আইপিটিএ (ভারতীয় গণনাট্য সংঘ) গঠিত হয়, যা পরবর্তীতে কলকাতা সহ দেশের নানা প্রান্তে ছড়িয়ে পড়ে। স্বাধীনতা আন্দোলন, শ্রেণি সংগ্রাম, ফ্যাসিবাদ বিরোধী ও সাম্রাজ্যবাদ বিরোধী আন্দোলনকে শক্তিশালী করেছিল এই সাংস্কৃতিক আন্দোলন।”
তিনি আরও বলেন, “রবীন্দ্রনাথ, নজরুল, সুকান্ত, সলিল চৌধুরী, হেমন্ত মুখোপাধ্যায়, ঋত্বিক ঘটক — এঁদের সৃষ্টি শুধু শিল্প নয়, সমাজ বিকাশের হাতিয়ারও। তাঁদের গান, কবিতা ও চলচ্চিত্রের মধ্য দিয়েই সাধারণ মানুষের কাছে পৌঁছে গিয়েছে প্রতিবাদ ও পরিবর্তনের বার্তা।”