নিজস্ব প্রতিবেদন: কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ‘আমার সোনার বাংলা আমি তোমায় ভালোবাসি’ গাওয়া নিয়ে দেশ জুড়ে বিতর্কের মাঝে গানটিকে ‘অস্ত্র’ করে গোটা বাংলার পথে নামছে ভারতের গণতান্ত্রিক যুব ফেডারেশন (DYFI) রাজ্য কমিটি। ডাক দেওয়া হয়েছে ৪ নভেম্বর রাজ্যের সব পাড়ায় সন্ধ্যা ৭টায় গাওয়া হবে রবি ঠাকুরের এই গানটি। ইতিমধ্যেই DYFI-এর রাজ্যের ফেসবুক পেজে কর্মসূচিটি নিয়ে পোস্ট করা হয়েছে। সেখানে ব্যাপক সাড়া মিলেছে, নেটাগরিকরা নিজেদের মতো করে কর্মসূচির ডিজিটাল পোস্টার শেয়ার করে চলেছেন।
DYFI পশ্চিম মেদিনীপুর জেলা সম্পাদক সুমিত অধিকারীর বক্তব্য, তারা গভীর উদ্বেগের সঙ্গে লক্ষ করেছে, বাংলা ভাষা এবং রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর সহ বহু প্রথিতযশা বাঙালি মনীষীদের ধারাবাহিকভাবে অবমাননা করে চলেছেন বিজেপি নেতৃত্ব, এমনকি কেন্দ্রীয় মন্ত্রী সহ কয়েকটি বিজেপি শাসিত রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীরাও।
বঙ্গভঙ্গের প্রতিবাদে ১৯০৫ সালের ৭ আগস্ট কলকাতার টাউন হলে যে সভা হয় সেই উপলক্ষে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ‘আমার সোনার বাংলা, আমি তোমায় ভালোবাসি, গানটি রচনা করেন। স্বরলিপিটি ছিল ইন্দিরা দেবীর। পরবর্তী সময়ে সুচিত্রা মিত্রর কণ্ঠে গাওয়া গানটিই বিপুল জনপ্রিয়তা অর্জন করে।
অসমে কংগ্রেসের এক রাজনৈতিক সভায় এই গান গাওয়াকে সম্প্রতি রাষ্ট্রদ্রোহী কাজ রূপে চিহ্নিত করেছেন সে রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্বশর্মা। তার পরই দেশ জুড়ে শুরু হয়েছে বিতর্ক। এমনকি, পশ্চিমবঙ্গের কয়েকজন বিজেপি নেতাও বলেছেন, এই রাজ্যেও তাঁরা ক্ষমতায় এলে এই গানটিকে নিষিদ্ধ করে দেবেন।
তবে একই সঙ্গে আরও একটি ভিডিও নতুন করে ভাইরাল হয়েছে, যেখানে কলকাতার ব্রিগেড প্যারেড গ্রাউন্ডে ২০১৪ সালে এক নির্বাচনী জনসভায় নরেন্দ্র মোদী ভাঙা ভাঙা বাংলায় রবি ঠাকুরের এই গানের লাইন দুটি বলেন। বাম রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত কয়েক জন ব্যক্তিত্ব স্বাভাবিক ভাবেই এর পর প্রশ্ন তোলেন তাহলে নরেন্দ্র মোদীর বিরুদ্ধে দেশোদ্রোহিতার অভিযোগ দায়ের হবে না কেন? সে প্রশ্নের অবশ্য কোনও উত্তর আসেনি বিজেপির কাছ থেকে।
DYFI-এর তরফে বলা হয়েছে, বাংলা ভাষায় কথা বলার ‘অপরাধে’ বেশ কয়েকটি বিজেপি শাসিত রাজ্যে অনেক বাঙালিকে হেনস্থা করা হয়েছে, এমনকি বলপূর্বক বাংলাদেশে পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছে। তারা এই ধরনের উক্তি ও ঘটনার তীব্র প্রতিবাদ জানিয়ে আরও বলেছে, শুধু পশ্চিমবঙ্গ নয়, আমাদের দেশ ও পৃথিবীর বিভিন্ন প্রান্তে বসবাসকারী সকল বাংলাভাষী ও বাংলাপ্রেমী মানুষের প্রতি আহ্বান জানানো হচ্ছে, এর প্রতিবাদে সবাই এগিয়ে আসুন, উচ্চকণ্ঠ হোন। এই বাংলায় স্বাধীনতা আন্দোলনের ঐতিহ্য বহন করছে যে গান, আসুন আমরা শপথ নিই তার অমর্যাদা হতে দেওয়া হবে না। ৪ নভেম্বর পাহাড় থেকে সাগর ধ্বনিত হোক এই গান।
সংগঠনের তরফে নানান স্তরে ইতিমধ্যেই প্রস্তুতি সারা হয়েছে এই কর্মসূচি নিয়ে। যদিও বিষয়টি নিয়ে বিজেপি বা অন্য কোনও সংগঠনের প্রতিক্রিয়া মেলেনি।