নিজস্ব সংবাদদাতা, ডেবরা: রাজ্য সরকারের দুর্নীতির অজুহাত দেখিয়ে কেন্দ্রীয় সরকার কয়েক বছর ধরে বন্ধ রেখেছে ১০০ দিনের কাজ। সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশের পরেও দুই সরকারেরই কোনও সদিচ্ছার অভাবে বন্ধ ১০০ দিনের কাজ—এই অভিযোগ সিপিআইএমের তরফে বারবার করা হয়েছে। এবার সেই ১০০ দিনের কাজ আদায় করতে সিপিআইএমের আন্দোলনের এক অন্য মাত্রা দেখা গেল পশ্চিম মেদিনীপুরের ডেবরায়।
ডেবরার ষাঁড়পুর-লোয়াদা গ্রামপঞ্চায়েত অফিসে কয়েকশো মানুষ মিছিল করে হাজির হন ১০০ দিনের কাজ-সহ আরও একাধিক দাবিতে। তাঁদের দাবির মধ্যে ছিল—আবাস যোজনায় প্রকৃত যোগ্যদের ঘর দিতে হবে, বার্ধক্য ভাতা পাওয়ার যোগ্য ব্যক্তিদের বঞ্চিত করা চলবে না, গ্রাম সংসদ ডেকে জানাতে হবে এলাকার রাস্তা-সহ বেহাল পরিকাঠামো উন্নয়নে কী কী পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে এবং ভবিষ্যতে কী করা হবে।
বিক্ষোভ, অবস্থান ও পথসভায় যোগ দেওয়া আন্দোলনকারীদের অভিযোগ, একাধিক দুর্নীতির সঙ্গে যুক্ত এই গ্রামপঞ্চায়েত। তাই বিক্ষোভকারীরা পঞ্চায়েত অফিস চত্বরে মাইকে বারবার প্রশ্ন তুলতে থাকেন—১০০ দিনের কাজ দেওয়ার জন্য পঞ্চায়েতের তরফে কী কী পদক্ষেপ করা হয়েছে। কারণ, এর আগে একাধিকবার ১০০ দিনের কাজের দাবিতে ডেপুটেশন দেওয়া হয়েছে। সেই ডেপুটেশনগুলি কি পঞ্চায়েত অফিস ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠিয়েছে? এলাকার সব সমস্যা সমাধানের ক্ষমতা পঞ্চায়েতের হাতে না থাকলেও সাধারণ মানুষের হয়ে সিপিআইএম যে ডেপুটেশন দিয়েছে, তা কি প্রশাসনের উচ্চস্তরে পাঠানো হয়েছে? যদি পাঠানো হয়ে থাকে, তবে সেই সব জ্বলন্ত দাবির বর্তমান অবস্থাই বা কী—এসব প্রশ্নের উত্তর দিতে পঞ্চায়েত প্রধানকে নিচে নেমে এসে কথা বলতে হবে বলে দাবি জানান আন্দোলনকারীরা।
বারবার এই চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দেওয়ার পর অনড় জনতার দাবির মুখে শেষ পর্যন্ত মহিলা পঞ্চায়েত প্রধান সচিবের সঙ্গে নিচে নেমে এসে মাইকের সামনে কথা বলতে বাধ্য হন। কিন্তু রাস্তা, ১০০ দিনের কাজ, আবাস যোজনা, বার্ধক্য ভাতা-সহ একাধিক ইস্যুতে পঞ্চায়েত কী কী কাজ করেছে, তার কোনও সন্তোষজনক উত্তর দিতে পারেননি তাঁরা। সাধারণ মানুষের আবেদন ও ডেপুটেশনের কপি নিয়ে কী পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে, তারও কোনও প্রমাণ মানুষের সামনে তুলে ধরতে পারেননি। কার্যত নিজেদের ব্যর্থতার কথাই স্বীকার করে নিতে বাধ্য হন তাঁরা।
আন্দোলনরত সাধারণ মানুষ জানিয়েছেন, এখানেই তাঁরা থামবেন না। যত দিন না তাঁরা ১০০ দিনের কাজ, আবাস যোজনা ও বার্ধক্য ভাতা পাচ্ছেন, তত দিন প্রতিদিন সকালে ঝোড়া-কোদাল নিয়ে পঞ্চায়েত অফিসের সামনে ধর্নায় বসবেন। আন্দোলন আরও বৃহত্তর ও দীর্ঘমেয়াদি হবে বলেও হুঁশিয়ারি দেন তাঁরা।