নিজস্ব সংবাদদাতা, দাসপুর: পরিকল্পনা ছিল গ্রামসভা ডেকে আরও কয়েকটি নতুন প্রকল্পে অনুমোদন নেওয়া। কিন্তু তার আগেই পুরনো প্রশ্ন ফের সামনে এনে ক্ষোভে ফেটে পড়লেন গ্রামবাসীরা—“আগের বার রাস্তার জন্য যে টাকা বরাদ্দ হয়েছিল, তার কী হল? আগে রাস্তা মেরামত করুন, তারপর নতুন প্রকল্প হবে।”
গ্রামবাসীদের তুমুল বিক্ষোভের জেরে ভেস্তে গেল গোটা পরিকল্পনা। বৃহস্পতিবার বিকেলে এমনই দৃশ্য দেখা গেল পশ্চিম মেদিনীপুরের দাসপুর-১ ব্লকের পাঁচবেড়িয়া গ্রাম পঞ্চায়েতের কিশোরনগর গ্রামে। ঘটনায় এলাকায় রাজনৈতিক চর্চা তুঙ্গে।
বুধবার এলাকাবাসীকে জানানো হয় যে বৃহস্পতিবার “পাড়ায় সমাধান” সভার আয়োজন করা হবে। কিন্তু গ্রামের রাস্তা নিয়ে দীর্ঘদিনের ক্ষোভ ভিতরে ভিতরে দানা বেঁধেছিল। তাই আগেভাগেই হাজির হন স্থানীয় মানুষজন। প্রশাসনিক কর্তারা গ্রামে আসতেই তাঁদের ঘিরে বিক্ষোভ শুরু করেন গ্রামবাসীরা।
অভিযোগ, প্রায় ১৪–১৫ বছর ধরে গ্রামের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ আড়াই কিলোমিটার দীর্ঘ রাস্তা, যা টালিভাটা বাজার হয়ে ঘাটাল–পাঁশকুড়া রাজ্য সড়কে মিশেছে, তা বেহাল অবস্থায় রয়েছে। বহুবার জানানো সত্ত্বেও কোনও কাজ হয়নি। উপরন্তু বছর দুয়েক আগে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ছবি-সহ ‘পথশ্রী’ প্রকল্পের বোর্ড বসে, বরাদ্দ হয় ২৭ লাখ টাকা। কিন্তু রাস্তার এক ইঞ্চিও মেরামত হয়নি। টাকার কোনও হদিসও নেই বলে দাবি গ্রামবাসীদের।
রাস্তার বেহাল দশার কারণে রোগীকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া দুঃস্বপ্ন হয়ে দাঁড়িয়েছে। অ্যাম্বুলেন্স বা টোটো—কিছুই ঢুকতে চায় না এই রাস্তা দিয়ে। এ অবস্থায় গ্রামসভার ডাক পাওয়ামাত্রই স্থানীয় বাসিন্দা তুহিন সাও, সুরেশ জানা, মালতি বিষুই-সহ বহু গ্রামবাসী জড়ো হন।
এলাকায় ঢোকার আগেই তাঁরা বিডিও, পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতি সুকুমার পাত্র, উপপ্রধান গোপাল রায় এবং পঞ্চায়েত সদস্য নাসিমা বিবিকে ঘিরে ধরেন। তুমুল বিক্ষোভের মুখে “পাড়ায় সমাধান” সভা বাতিল করে ফিরে যেতে বাধ্য হন প্রশাসনিক ও পঞ্চায়েত কর্তারা।
গ্রামবাসীদের দাবি—
“আগের বরাদ্দ টাকায় রাস্তা নির্মাণ করতে হবে। তারপর গ্রামে সমাধান সভা হবে।”
দাবি মানা না হলে প্রশাসন ও জনপ্রতিনিধিদের গ্রামে ঢুকতে দেওয়া হবে না, স্পষ্ট জানিয়ে দেন তাঁরা। বিডিওকে ঘিরে ধরে গ্রামবাসীরা প্রশ্ন তোলেন—“২৭ লাখ টাকা কোথায় গেল?”
আরও অভিযোগ, এখন নাকি বুথ উন্নয়ন তহবিলের টাকায় রাস্তা তৈরি করে আগের অর্থ আত্মসাতের ঘটনা আড়াল করার চেষ্টা চলছে। এই নিয়েও উত্তেজনা বাড়ে।
বিক্ষোভকারীদের হুঁশিয়ারি—
৭ দিনের মধ্যে রাস্তা মেরামত না হলে গ্রাম পঞ্চায়েত দপ্তর অকেজো করে দেওয়া হবে, চলবে লাগাতার ঘেরাও। প্রয়োজনে বিডিও অফিসও ঘেরাও করা হবে পরিবার-পরিজন নিয়ে।
বিক্ষোভ চলাকালীন শ্লোগান ওঠে—“চোর হঠাও, গ্রাম বাঁচাও।”
অবশেষে তীব্র প্রতিবাদের মুখে পড়েই ফিরে যেতে হয় প্রশাসন ও পঞ্চায়েত কর্তাদের।