নিজস্ব প্রতিবেদন, ২৯ অক্টোবর: আদালতে ঐতিহাসিক জয় পেয়েই এবার রাস্তায় নামছে বামপন্থীরা। ১০০ দিনের কাজের অধিকার পুনঃপ্রতিষ্ঠার এই জয় যে রাজ্যের লাখো গরিব খেতমজুর ও গ্রামীণ শ্রমিক সংগঠনের জন্য এসেছে, তা তুলে ধরতেই সিপিআই(এম) ও তার গণসংগঠনগুলি ইতিমধ্যেই, দলের রাজ্য সম্পাদক মহম্মদ সেলিমের কথায় নেটে ও হেঁটে (পথে ও সোশ্যাল মিডিয়ায়) ব্যাপক প্রচারে নেমেছে।
বামেদের এই লড়াইয়ের মূল কেন্দ্র ছিল AIAWU (All India Agricultural Workers’ Union) — যারা ১০০ দিনের কাজ (MGNREGA) চালু করার দাবিতে আদালতের দ্বারস্থ হয়। এই মামলাটি লড়েন সিপিআই(এম) সাংসদ ও বিশিষ্ট আইনজীবী বিকাশ রঞ্জন ভট্টাচার্য, যাঁর যুক্তি ও আইনি পদক্ষেপেই কলকাতা হাইকোর্টের পর দেশের সর্বোচ্চ আদালতে ঐতিহাসিক রায় এসেছে।
সুপ্রিম কোর্ট কেন্দ্রীয় সরকারের করা আপিল সরাসরি খারিজ করে দিয়েছে, ফলে কলকাতা হাইকোর্টের আগের নির্দেশই বহাল থাকল। যেখানে বলা হয়েছিল, রাজ্যে ১ আগস্টের মধ্যে ১০০ দিনের কাজ চালু করতে হবে।
উল্লেখযোগ্য ভাবে, রাজ্য সরকার এই মামলার কোনও পক্ষ ছিল না।এর আগে দীর্ঘ দিন ধরে বামপন্থীরা প্রশ্ন তুলছিলেন, কেন রাজ্য সরকার ১০০ দিনের কাজের টাকা আদায় করতে সুপ্রিম কোর্টে যাচ্ছে না। বিকাশ রঞ্জণ ভট্টাচার্য এমনও বলেছিলে, যে রাজ্য সরকার যদি সুপ্রিম কোর্টে মামলা করে তিনি বিনা পয়সায় সেই মামলা লড়বেন। কিন্তু যেহেতু ৪ জেলায় ১০০ দিনের কাজের দুর্নীতির দায় মেনে জরিমানা বাবদ কয়েক লক্ষ টাকা পশ্চিমবঙ্গ সরকার মিটিয়ে দিয়েছিল। অভিযোগ তাই মামলায় আরও অনেক কিছু বেরিয়ে পড়ার ভয়েই কেন্দ্রের বিরুদ্ধে আদালতে যায়নি তারা
এবার রায়ের পর বিকাশ রঞ্জন ভট্টাচার্য বলেছেন, “এটি কেবল আইনি লড়াই নয়, দেশের গরিব মানুষের জীবিকার জন্য সংগ্রাম। আদালতের এই রায় দেখিয়ে দিল, আইন ও ন্যায় সবসময় শ্রমজীবী মানুষের পক্ষেই থাকে।”
এই রায়ের ফলে রাজ্যের লাখো খেতমজুর, দিনমজুর ও গ্রামীণ শ্রমিকের জীবিকায় নতুন আশার আলো জ্বলেছে। সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশে এখন কেন্দ্র সরকার ১০০ দিনের কাজের বরাদ্দ দিতে বাধ্য হবে।
বিজেপিও এখান থেকে রেহাই পেল না। কেন্দ্রীয় সরকার দুর্নীতির অভিযোগ তুলে রাজ্যের ১০০ দিনের কাজের টাকা বন্ধ রেখেছিল, কিন্তু আদালতে সেই যুক্তি টিকল না। আদালত স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে — কাজের অধিকার সংবিধান-প্রদত্ত অধিকার, তা কোনও অজুহাতে অস্বীকার করা যায় না।
এই রায়ের পর বামপন্থীরা এখন মাঠে নেমে প্রচার অভিযান শুরু করেছে। সিপিআই(এম), বামফ্রন্ট ও সংশ্লিষ্ট কৃষক-শ্রমিক সংগঠনগুলি পোস্টার, মিছিল, পথসভা ও সমাজ মাধ্যমে জানাচ্ছে— “লড়াই করল বামেরা, কাজ পেল গরিবরা!”
বাম নেতারা জানিয়েছেন, আদালতের এই জয় শুধুমাত্র আইনি সাফল্য নয়, এটি শ্রমজীবী মানুষের সম্মানের জয়।
তাদের বক্তব্য — “এখন কাজ মানুষের হাতে পৌঁছানোই আমাদের পরবর্তী লক্ষ্য। আদালতের রায়কে বাস্তবে পরিণত করতে আমরা রাজ্যজুড়ে আন্দোলন গড়ে তুলব।”
এই রায়ের মধ্য দিয়ে একদিকে যেমন বাম আন্দোলনের ধারাবাহিকতা ও দৃঢ়তা আবার প্রমাণিত হল, তেমনি প্রকাশ পেল তৃণমূল ও বিজেপি— দুই শাসক দলের ব্যর্থতা ও দায়। ১০০ দিনের কাজের দাবিতে এই রায় এখন রাজ্যের রাজনীতিতে নতুন অধ্যায় খুলে দিল।