সিপিআইএম থেকে বহিষ্কৃত প্রতিকুর রহমান, রয়ে গেল অনেক প্রশ্ন!

সিপিআইএমের গঠনতন্ত্র মেনে শনিবার প্রতিকুর রহমানকে বহিষ্কার করা হল। গত কয়েক দিনের নানা ঘটনা ও জল্পনার অবসান ঘটল এদিন। তৃণমূল সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের হাত থেকে তৃণমূলের পতাকা নেওয়ার পরই সিপিআইএম রাজ্য কমিটির তরফে বহিষ্কারের ঘোষণা করা হয়। তবে রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের একাংশের মতে, প্রতিকুর যা করেছেন, তা আইপ্যাকের ‘স্ক্রিপ্ট’ মেনেই ধাপে ধাপে। সময়ের সঙ্গে বিষয়টি ক্রমশ স্পষ্ট হচ্ছে বলেই মত তাঁদের।

ওয়াকিবহাল মহলের দাবি, গত দুই-তিন মাস ধরে সিপিআইএমের কোনও মিটিং, মিছিল বা সভায় উপস্থিত ছিলেন না প্রতিকুর রহমান। শোনা যায়, পার্টির হোলটাইমার হিসেবে মাসে সাত হাজার টাকা ভাতা পেতেন তিনি। পাশাপাশি সংসার চালানোর জন্য দলের এক প্রাক্তন সাংসদ প্রতি মাসে আরও ১০ হাজার টাকা দিতেন। প্রতিকুরের মেয়ের পড়াশোনার যাবতীয় দায়ভারও নিয়েছিলেন চাকরিজীবী এক পার্টি সদস্য। তবে গত দুই-তিন মাস ধরে ওই আর্থিক সহায়তা নেওয়া বন্ধ করে দেন প্রতিকুর—এমনই শোনা যাচ্ছিল দলীয় সূত্রে।

দলের নেতা সুজন চক্রবর্তী সহ একাধিক নেতা তাঁর বাড়িতে গিয়ে দেখা করার চেষ্টা করলেও সাক্ষাৎ হয়নি বলেই জানা গিয়েছে। ফলে দল ছাড়ার জন্য তিনি বেশ কিছু দিন ধরেই ‘জমি তৈরি’ করছিলেন—এমনই ধারণা রাজনৈতিক মহলের একাংশের।

পদত্যাগপত্র সামনে আসার পরও দলের শীর্ষস্তর থেকে তাঁর সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা হয়। কিন্তু তিনি ফোন ধরেননি। এর পরই জল্পনার অবসান ঘটিয়ে এক তৃণমূল নেতার দফতরে বসে কয়েকজন নির্বাচিত সাংবাদিককে সাক্ষাৎকার দেন প্রতিকুর—এমন অভিযোগ উঠেছে।

সাক্ষাৎকারে সিপিআইএম নেতৃত্বের বিরুদ্ধে যে অভিযোগগুলি তুলেছেন প্রতিকুর, তার প্রত্যেকটিরই জবাব দেওয়া হয়েছে দলের তরফে। সিপিআইএম নেতা শতরূপ ঘোষ বলেন, প্রতিকুর আজ যে অভিযোগ তুলছেন, তার কোনওটিই তিনি রাজ্য কমিটি বা দলের অন্য কোনও ফোরামে আগে তোলেননি। ফলে রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের একাংশ মনে করছেন, সবটাই পরিকল্পিত পদক্ষেপ।

তবে প্রশ্ন থেকেই যাচ্ছে—কী প্রাপ্তি বা কোন কোন প্রতিশ্রুতির ভিত্তিতে প্রতিকুর রহমান তৃণমূলে যোগ দিলেন? সময়ই তার উত্তর দেবে বলে মনে করছে রাজনৈতিক মহল।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *