নিজস্ব সংবাদদাতা: দ্বিতীয় দিনের পথচলা শুরু হল সিপিআইএমের ‘বাংলা বাঁচাও যাত্রা’র। শুক্রবার কোচবিহারের মাথাভাঙায় পঞ্চানন বর্মার মূর্তিতে মাল্যদান করে কর্মসূচির আনুষ্ঠানিক সূচনা করেন সিপিআইএম রাজ্য সম্পাদক মহম্মদ সেলিম। উপস্থিত ছিলেন দলের কেন্দ্রীয় কমিটির নেত্রী মিনাক্ষী মুখার্জি, জেলা ও রাজ্য নেতৃত্ব।
শুক্রবারই বলরামপুরে ভাওয়াইয়া সম্রাট আব্বাসউদ্দিনের ১২৫তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে তাঁকে শ্রদ্ধা জানিয়ে বিশেষ অনুষ্ঠান করা হয়। শনিবার কোচবিহারের তুফানগঞ্জ থেকে শুরু হয় বাংলা বাঁচাও যাত্রার দ্বিতীয় দিনের কর্মসূচি।
তুফানগঞ্জে বক্তব্য রাখার সময় সিপিআইএম রাজ্য সম্পাদক মহম্মদ সেলিম বলেন, “বাংলার পুনর্জাগরণের জন্য বামপন্থার পুনরুত্থান দরকার। বাংলা বাঁচাও যাত্রা আসলে নতুন বাংলা গড়ার শপথ। বিভিন্ন অংশের মানুষের সঙ্গে কথা বলব, তাঁদের সমস্যার কথা শুনব। এই যাত্রা থেকেই আমাদের আন্দোলনের নতুন রসদ মিলবে।”
তিনি আরও বলেন, “এর আগে কোচবিহার থেকে কলকাতা পর্যন্ত আমরা পদযাত্রা করেছি। এবার তুফানগঞ্জ থেকে যাত্রা শুরু করছি জনমত গঠনের লক্ষ্যে। গতকাল পঞ্চানন বর্মা ও আব্বাসউদ্দিনকে স্মরণ করেছি। কেউ কেউ কটাক্ষ করছে—বাংলা কি মরে গিয়েছে? আমরা এই বাংলাকে তিল তিল করে গড়েছি। আজ শিল্প, সংস্কৃতি, কৃষি সবই ধ্বংসের মুখে। তাই বাংলাকে বাঁচানোর লড়াইয়ে আমরা পথে নেমেছি।”
ভোটাধিকার প্রসঙ্গে সেলিম বলেন, “আমাদের প্রথম দাবি—ভোটাধিকার রক্ষা। নির্বাচন কমিশন পূর্বপুরুষের তথ্য চাইছে। বিজেপি–তৃণমূল বাংলাদেশি, রোহিঙ্গা ইস্যুতে বিভাজন তৈরি করছে। মানুষকে ভয় দেখানোই ওদের লক্ষ্য। আমরা মানুষকে সেই ভয় থেকে বাঁচাতে নেমেছি।”
ধর্মকে রাজনীতির সঙ্গে না মেশানোর আহ্বান জানিয়ে তিনি জ্যোতি বসুর বক্তব্য স্মরণ করান। বলেন,
“মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ই বিজেপিকে বাংলায় জায়গা করে দিয়েছিলেন। আরএসএস তাঁকে ‘দুর্গা’ সাজিয়ে বলেছিল—মমতাই পারে লাল ঝান্ডাকে হারাতে। এখন সেই মমতা মধ্যপ্রদেশে বিজেপির চুরির মডেল কপি করছেন। ইডি–সিবিআই কিছু করছে না।”
শিল্পায়ন প্রসঙ্গে তিনি বুদ্ধদেব ভট্টাচার্যের স্বপ্ন পূরণের আহ্বান জানান। তাঁর কথায়, “বুদ্ধদেব ভট্টাচার্য শিল্পায়ন চেয়েছিলেন। তখন বিজেপি–তৃণমূল–মাওবাদী সবাই মিলে তাঁর বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালায়। কিন্তু পারেনি। সেই স্বপ্ন আমাদের সত্যি করতে হবে। স্কুল–কলেজ বন্ধ হচ্ছে, শিক্ষা–স্বাস্থ্য বাঁচাতে হবে।”
মোদী–মমতার অর্থনৈতিক দাবির বিরোধিতা করে সেলিম বলেন, “ওরা বলছে দেশ এগোচ্ছে। কিন্তু পরিসংখ্যানে দেখা যাচ্ছে—গর্ভবতী মায়েদের মধ্যে রক্তাল্পতা বাড়ছে।”
বাংলা বাঁচাও যাত্রা ঘিরে রাস্তায় যেমন উচ্ছ্বাস দেখা যাচ্ছে, তেমনি সোশ্যাল মিডিয়ায় কার্যত ঝড় তুলেছে হ্যাশট্যাগ #BanglaBachaoYatra। রাজ্যের শিক্ষা, স্বাস্থ্য, কর্মসংস্থান, দুর্নীতি, নদীভাঙন, ফসলের দাম না পাওয়া, সারের মূল্যবৃদ্ধি—এই সব ইস্যু নিয়ে একের পর এক রিল, পোস্টার, ভিডিও শেয়ার হচ্ছে।
প্রথম দিনের শেষে যাত্রা পৌঁছয় আলিপুরদুয়ার জেলার ফালাকাটায়। রবিবার সকালে দ্বিতীয় দিনের যাত্রা শুরু হয় ফালাকাটা থেকে। সেখান থেকে ময়নাগুড়ি, জলপাইগুড়ি, শিলিগুড়ি হয়ে রাতের মধ্যে পৌঁছে যাবে উত্তর দিনাজপুরের ডালখোলায়। ১৭ ডিসেম্বর উত্তর ২৪ পরগনার কামারহাটিতে এক বিশাল সমাবেশের মধ্য দিয়ে শেষ হবে বাংলা বাঁচাও যাত্রা।