নিজস্ব প্রতিবেদন: রাজ্যের শিক্ষা, স্বাস্থ্য, কর্মসংস্থানসহ একগুচ্ছ ইস্যুতে ‘বাংলা বাঁচাও যাত্রা’ শুরু করতে চলেছে সিপিআইএম। ২৯ নভেম্বর কোচবিহারের তুফানগঞ্জ থেকে শুরু হবে এই যাত্রা। ১১টি জেলা জুড়ে প্রায় হাজার কিলোমিটার পথ পেরিয়ে ১৭ ডিসেম্বর উত্তর ২৪ পরগনার কামারহাটিতে জনসমাবেশের মাধ্যমে শেষ হবে এই কর্মসূচি।
রাজ্যে তৃণমূল কংগ্রেসের জমানায় একের পর এক জ্বলন্ত ইস্যুকে হাতিয়ার করেই আন্দোলনের পথে নামছে সিপিআইএম। গোটা রাজ্য জুড়ে ঐক্যবদ্ধ আন্দোলন কর্মসূচি নেওয়া হয়েছে। মূল লক্ষ্য কার্যত আগামী নির্বাচনের অ্যাজেন্ডা সেট করা—যেখানে তৃণমূল-বিজেপির বায়নারি ভেঙে রাজ্যের সব স্তরের মানুষের মূল সমস্যাগুলি সামনে আনা, যাতে ধর্মের রাজনীতির তলায় চাপা না পড়ে যায় রুজি–রুটির দাবি।
বুধবার সাংবাদিক সম্মেলন করে ‘বাংলা বাঁচাও যাত্রা’র রুটম্যাপ ঘোষণা করেন সিপিআইএম রাজ্য সম্পাদক মহম্মদ সেলিম। তিনি বলেন,
“বাংলার সরকার রাজ্যকে লুটপাট, দুর্নীতি, দুঃশাসন এবং বঞ্চনার গল্পে পরিণত করেছে। অন্যদিকে কেন্দ্রের বিজেপি এমন নীতি গ্রহণ করেছে, যা শ্রমিক, কৃষক এবং দরিদ্রদের ধ্বংসের মুখে ঠেলে দিয়েছে। শিক্ষা থেকে কর্মসংস্থান, স্বাস্থ্যসেবা থেকে নারীর নিরাপত্তা—প্রতিটি স্তম্ভই ফাঁকা করে দেওয়া হয়েছে। এই যাত্রা আমাদের মর্যাদা, অধিকার এবং গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের অঙ্গীকার।”
বাংলা বাঁচাও যাত্রায় সিপিআইএম চেষ্টা করবে তৃণমূল নেতৃত্বাধীন সরকারের বিরুদ্ধে অবিচার, লুটপাট এবং গণতান্ত্রিক অবক্ষয়ের ইস্যুগুলিকে সামনে এনে মানুষকে সমবেত করতে। পাশাপাশি বিজেপি নেতৃত্বাধীন কেন্দ্রীয় সরকারের একের পর এক জনবিরোধী নীতি ও সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধেও লড়াই জারি রাখবে বাম শিবির। সেই লড়াইয়ে মানুষের আরও সক্রিয় অংশগ্রহণই এই যাত্রার মূল উদ্দেশ্য।
ইতিমধ্যেই সোশ্যাল মিডিয়ায় #BanglaBachaoYatra ট্রেন্ড করছে। ‘বাঁচবেরে বাংলা’, ‘লাল ঝান্ডা’—এসব গান দিয়ে তৈরি ডিজিটাল পোস্টার ও রিল ছড়িয়ে পড়ছে নেটমাধ্যমে। যেখানে একেকটি পোস্টারে তুলে ধরা হচ্ছে—
শিক্ষার দুরাবস্থা, গ্রামীণ স্বাস্থ্যব্যবস্থা, কৃষকদের সংকট, নদীভাঙন, পরিযায়ী শ্রমিকদের দুঃখ–দুর্দশা, চা–বিড়ি শিল্প ও অন্যান্য অসংগঠিত ক্ষেত্রের শ্রমিকদের জ্বলন্ত সমস্যার ছবি।