মহাকাশে ‘বারবিকিউ চিকেন’: মহাকাশ গবেষণায় নতুন দিগন্ত খুলে দিল চীনা বিজ্ঞানীরা

ডিজিটার ডেস্ক: মহাকাশ গবেষণায় আরও এক ধাপ এগিয়ে গেল চিন। এবার পৃথিবীর মাটিতে নয়, মহাকাশের কক্ষপথেই রান্না হলো মুরগির মাংস ও স্টেক! চীনের মানববাহী মহাকাশ কর্মসূচিতে এটি এক ঐতিহাসিক প্রথম, যেখানে শেনঝো–২০ ও শেনঝো–২১ মিশনের নভোচারীরা চীনের তিয়ানগং মহাকাশ স্টেশনে একটি বিশেষভাবে তৈরি “স্পেস ওভেন”-এ মুরগির ডানা বারবিকিউ ও স্টেক গ্রিল করেছেন।

অ্যাস্ট্রোনট সেন্টার অফ চায়না (ACC) প্রকাশিত এক ফুটেজে দেখা যায়, নভোচারীরা প্রায় ২৮ মিনিট ধরে ওভেনে মুরগির মাংস রান্না করার পর সেটি ভাগ করে খাচ্ছেন। সেই দৃশ্য দ্রুত ভাইরাল হয়। উন্নত তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা ও উচ্চ-তাপমাত্রা অনুঘটকের সাহায্যে তৈরি এই ধোঁয়াবিহীন ওভেনটি একটানা ৫০০ বার পর্যন্ত কাজ করতে পারে।

চীনা সংবাদমাধ্যম গ্লোবাল টাইমসের প্রতিবেদন অনুযায়ী, এই ওভেনটি বিশেষভাবে তৈরি করা হয়েছে মহাকাশের অভিকর্ষহীন পরিবেশে ব্যবহার উপযোগী করে। এর মাধ্যমে ধোঁয়া নিয়ন্ত্রণ, তাপমাত্রার ভারসাম্য রক্ষা ও কণিকা ছড়িয়ে পড়া রোধ করা যায়। পূর্বে ২০২০ সালে আন্তর্জাতিক মহাকাশ স্টেশনে (ISS) প্রথমবার ‘কুকি বেকিং’ পরীক্ষায় নভোচারীরা রুটি সেকতে প্রায় ২ ঘণ্টা সময় নিয়েছিলেন। অথচ চীনের নতুন স্পেস ওভেন সেই সময়কে কমিয়ে এনেছে মাত্র ২৮ মিনিটে।

এই নতুন প্রযুক্তি শুধুমাত্র রান্নার সুবিধা নয়—মহাকাশে মানুষের দীর্ঘস্থায়ী বাসের দিকে এক গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ। কারণ, দীর্ঘমেয়াদী অভিযানে নভোচারীদের মানসিক স্বস্তি, মনোবল এবং জীবনযাত্রার মান বজায় রাখা অত্যন্ত জরুরি। “গরম, তাজা খাবার ভাগ করে খাওয়ার মধ্য দিয়ে নভোচারীদের মধ্যে এক ধরনের পারস্পরিক সংযোগ ও আনন্দ তৈরি হয়,” জানিয়েছে চীনা মানববাহী মহাকাশ সংস্থা (CMSA)।

তিয়ানগং মহাকাশ স্টেশনে এখন প্রায় ১৯০ রকমের খাবার অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে—যা শেনঝো–৫ যুগের প্যাকেটজাত সীমিত খাবারের তুলনায় এক বিশাল অগ্রগতি। এই উদ্ভাবন প্রমাণ করছে, চীনের মহাকাশ কর্মসূচি কেবল প্রযুক্তিগত নয়, মানবিক দিক থেকেও দ্রুত এগোচ্ছে।

মহাকাশে ‘চিকেন বারবিকিউ’ তাই শুধু একটি মজার খবর নয়, বরং ভবিষ্যতের দীর্ঘমেয়াদী চাঁদ বা মঙ্গল মিশনের জন্য এক বাস্তব অনুশীলন—যেখানে মানুষ শুধু বেঁচে থাকবে না বরং জীবনের স্বাদও উপভোগ করবে মহাকাশে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *