‘২-এর বদলে ১০’, মুসলিম মেয়েদের তুলে এনে বিয়ে করার উস্কানিমূলক মন্তব্য বিজেপি নেতার, তীব্র সমালোচনা সিপিআইএমের!


লখনউ: যোগীরাজ্যের বিজেপি নেতার সাম্প্রদায়িক মন্তব্য ঘিরে নতুন করে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে উত্তরপ্রদেশে। সিদ্ধার্থনগর জেলার ডুমরিয়াগঞ্জের প্রাক্তন বিজেপি বিধায়ক রাঘবেন্দ্র প্রতাপ সিং সাম্প্রতিক এক জনসভায় হিন্দু যুবকদের উদ্দেশে বলেন,ন “যদি দুটি হিন্দু মেয়ে চলে যায়, তবে অন্তত ১০ জন মুসলিম মেয়েকে নিয়ে আসুন। তাদের বিয়ের খরচ, চাকরি ও নিরাপত্তার দায়িত্ব আমি নিচ্ছি।”

এই উস্কানিমূলক মন্তব্যের ভিডিও ভাইরাল হতেই তীব্র প্রতিক্রিয়া ছড়িয়েছে রাজনৈতিক মহলে।

১৬ অক্টোবর, সিদ্ধার্থনগরের ঢাঁখরপুর গ্রামে অভিযোগ তোলা হয়— ২ জন হিন্দু মেয়েকে জোর করে মুসলিম যুবকদের সঙ্গে বিয়ে দেওয়া হয়েছে এবং ধর্মান্তরিতও করা হয়েছে।
সেই অভিযোগের পর ঘটনাস্থলে গিয়ে সভা করেন বিজেপি নেতা রাঘবেন্দ্র প্রতাপ সিং, যিনি যোগী আদিত্যনাথ ঘনিষ্ঠ বলেই পরিচিত। সেখানেই জনসমক্ষে উস্কানিমূলক মন্তব্য করেন তিনি।

ভিডিও ফুটেজে তাঁকে বলতে শোনা যায়, “আমরা ভয় পাব না। এটা অখিলেশ যাদবের আমল নয়, এখন যোগীজির যুগ চলছে। যদি দু’জন হিন্দু মেয়ে যায়, তাহলে দশজন মুসলিম মেয়েকে নিয়ে আসুন। আমরা আপনাদের পাশে আছি।” তিনি আরও বলেন, “যে হিন্দু যুবক মুসলিম মেয়েকে বিয়ে করবে, আমি তার বিয়ের খরচ দেব, চাকরির ব্যবস্থাও করব।”

এই মন্তব্য নিয়ে দেশজুড়ে সমালোচনা শুরু হলেও রাঘবেন্দ্র প্রতাপ সিং নিজের বক্তব্য থেকে একচুলও সরেননি। সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে তিনি বলেন, “ডুমরিয়াগঞ্জ একসময় ‘মিনি পাকিস্তান’ নামে পরিচিত ছিল। যোগীজির নেতৃত্বে এখন সন্ত্রাসীদের দাপট কমেছে। আগে হিন্দু মেয়েরা নিরাপদ ছিল না। এখন ভয় পাওয়ার কিছু নেই, আমরা আছি।” তাঁর দাবি, তিনি গ্রামবাসীদের ‘সতর্ক থাকতে’ বলেছেন, যাতে “আর কেউ ধর্মান্তরে প্রলুব্ধ না হয়।”

বিজেপি নেতার মন্তব্যে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন বিরোধীরা। সমাজবাদী পার্টির বিধায়ক সাইয়াদা খাতুন বলেন, “রাঘবেন্দ্র প্রতাপ সিংহের মন্তব্য নারী ও মুসলিম সমাজের প্রতি সরাসরি অপমান। প্রশাসন নীরব দর্শক হয়ে আছে। এই উত্তেজনা ছড়ালে তার দায় যোগী সরকারের।”

সিপিআই(এম) নেত্রী সুভাষিণী আলি বলেন, “এই মন্তব্য কেবল মুসলিমবিরোধী নয়, নারী-বিদ্বেষীও বটে। বিজেপির মনুবাদী চিন্তার নগ্ন প্রকাশ এটি। মুসলিম মেয়েদের ‘তুলে আনার’ কথা বলে উনি হিন্দু যুবকদেরও অবমাননা করেছেন।”

রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, বিজেপি নেতার এই মন্তব্য শুধু ব্যক্তিগত হিংস্রতা নয় বরং রাজ্যের শাসক দলের একাংশে ‘ধর্মীয় বিভাজনকে রাজনৈতিক পুঁজি হিসেবে ব্যবহার’ করার প্রবণতার ইঙ্গিত বহন করছে।
উত্তরপ্রদেশে এর আগেও ‘লভ জিহাদ’ ইস্যুতে বহুবার সাম্প্রদায়িক মেরুকরণের অভিযোগ উঠেছে।

সাম্প্রতিক এই মন্তব্যে সেই বিতর্ক ফের উসকে উঠল— একদিকে শাসকদল দাবি করছে ‘হিন্দু সুরক্ষা’; অন্যদিকে বিরোধীদের অভিযোগ, বিজেপি ধর্মকে অস্ত্র করে ভোট রাজনীতির মঞ্চে ঘৃণা ছড়াচ্ছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *