নিজস্ব সংবাদদাতা, শিলিগুড়ি: সদ্য তৃণমূল ছেড়ে বিজেপিতে যোগ দেওয়া শিলিগুড়ির মাটিগাড়া এলাকার নেতা খগেশ্বর রায়ের বাবা–ঠাকুরদা কে?—এটাই এখন লাখ টাকার প্রশ্ন। SIR শুরুর পর হঠাৎ করেই তৃণমূলের মাটিগাড়া ২ ব্লকের দীর্ঘদিনের সভাপতি ১৩ নভেম্বর বিজেপিতে যোগ দেন। এখন জানা যাচ্ছে, তিনি যে এনুমারেশন ফর্ম ফিল-আপ করেছেন, সেখানে অন্যের বাবাকে ঠাকুরদা বলে পরিচয় দিয়েছেন। বিষয়টি সামনে আসতেই রাজনৈতিক মহলে সোরগোল শুরু হয়েছে। প্রশ্ন উঠছে—তাহলে কি কোনও কিছু ধামাচাপা দিতেই ছোট–বড় অনেক নেতার মতো তিনিও তৃণমূল ছেড়ে বিজেপিতে যোগ দিয়েছেন?
খগেশ্বরের বিরুদ্ধে অভিযোগ, এক প্রতিবেশীকে নিজের ঠাকুরদা বলে দেখিয়েছেন এনুমারেশন ফর্মে। খগেশ্বর মাটিগাড়ার পাথরঘাটা গ্রাম পঞ্চায়েতের বানিয়াখারিতে থাকেন। ৫৬ বছরের খগেশ্বরের নাম ২০০২ সালের ভোটার তালিকায় নেই। নিয়ম মতো ২০০২ সালে তাঁর বাবা, মা, দাদু, ঠাকুমা বা এমন কারও নামের তথ্য দিলেই হত। কিন্তু তা না করে তিনি ৪৫ বছর বয়সী প্রতিবেশী তারকবন্ধু রায়কে নিজের ঠাকুরদা বলে চালানোর চেষ্টা করেছেন। বিষয়টি জানাজানি হতেই হইচই পড়ে গেছে।
তারকবন্ধুর ছেলে নরেশ রায় খগেশ্বরের দাবি উড়িয়ে দিয়েছেন। তিনি জানিয়েছেন, “খগেশ্বরের সঙ্গে আমাদের রক্তের কোনও সম্পর্ক নেই। আমার বাবা তারকবন্ধুর একমাত্র সন্তান আমি।” গোটা বিষয় নিয়ে যে জটিলতা তৈরি হয়েছে, তা দ্রুত মিটিয়ে নেওয়ার আবেদন করেছেন তিনি।
এদিকে খগেশ্বরের দাবি, “এমন কোনও ঘটনা ঘটেনি। এক নামে একাধিক ব্যক্তি থাকতে পারে। অনলাইনে আমার ব্যবহৃত এপিক নম্বরের সঙ্গে ওই তারকবন্ধুর এপিক নম্বরের মিল নেই। বিষয়টি নির্বাচন কমিশন দেখবে।”
কিন্তু সমস্যা হল—কথা ও কাজের মিল নেই। কারণ এসআইআর ফর্মে যে তারকবন্ধুর এপিক নম্বর তিনি ব্যবহার করেছেন, তা প্রতিবেশী নরেশ রায়ের বাবা তারকবন্ধুরই এপিক নম্বর। অর্থাৎ জেনে বা না জেনে তিনি প্রতিবেশীকেই নিজের ঠাকুরদা সাজিয়ে ফর্ম ফিল-আপ করেছেন।
এখন তৃণমূল কংগ্রেস এই পুরো ঘটনাটি নির্বাচন কমিশনের নজরে আনতে চাইছে। স্থানীয় তৃণমূল নেতা ভূপেন্দ্রনাথ সিংহ অভিযোগ করেছেন, “অন্যের বাবাকে ঠাকুরদা সাজিয়ে এনুমারেশন ফর্ম জমা দিয়েছেন খগেশ্বর রায়। এটা ঠিক নয়। এই কারণেই হয়তো তৃণমূল ছেড়ে বিজেপিতে যোগ দিয়েছেন উনি।”
এদিকে স্থানীয় বিজেপি নেতৃত্বের দাবি, বিতর্ক থাকলে তা নির্বাচন কমিশনই পরিষ্কার করবে।
দাবি–পাল্টা দাবি চলছেই। কিন্তু বড় প্রশ্ন—যখনই কোনও দুর্নীতি বা অন্যায়ের সঙ্গে বিরোধী দলের কারও নাম জড়ায়, তখনই তাঁরা দল পাল্টে বিজেপিতে কেন যোগ দেন? তাহলে কি সব দুর্নীতিগ্রস্ত ও অন্যায়কারীদের জন্য বিজেপির দরজা সবসময়ই খোলা? যেখানে গেলেই ‘ওয়াশিং মেশিনে ধুয়ে’ পরিষ্কার হয়ে যাবেন দুষ্কৃতীরা?