অ্যাম্বুলেন্স, রোগীর পরিবারকেও ছাড় নেই, ফ্রি পার্কিং থেকে জবরদস্তি টাকা আদায়?

নিজস্ব সংবাদদাতা, ঝাড়গ্রাম: অরণ্যসুন্দরী ঝাড়গ্রাম শহরের মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালের সামনে ফ্রি পার্কিং জোনেও জোর জবরদস্তি পার্কিং ফি বাবদ টাকা আদায় চলছে বলে গুরুতর অভিযোগ উঠছে। হেনস্তার শিকার গ্রাম থেকে আসা রোগীর পরিবার।এমনকি রোগী নিয়ে যাওয়ার জন্য যে সব অ্যাম্বুলেন্স এখানে পরিষেবা দেওয়ার জন্য অপেক্ষা করে, তাদের কাছ থেকেও প্রতিমাস বাবদ ১০০০ টাকা ‘তোলা’ আদায়ের অভিযোগ উঠছে।

তৃণমূল কংগ্রেসের মদত পুষ্ট ‘তোলাবাজ’ গ্রুপ ঝাড়গ্রাম পুরসভার নামে নকল রসিদে টাকা আদায় করছে বলে অভিযোগ গাড়ি চালক, রোগীর পরিবারদের। সিআইটিইউ জেলা সম্পাদক পার্থ যাদব বলেন, ঝাড়গ্রাম শহর ঘিরে শাসক দল তৃণমূলের মদত পুষ্ট অসাধু চক্রের এমন তোলাবাজি চললেও পৌরসভা ও প্রসাশন  নির্বিকার। সরকারি এমনকি খাস পুরসভার জায়গা  থেকে শুরু করে ব্যক্তিগত মালিকাধীন জায়গাতেও পার্কিংয়ের নামে দৈনিক হাজার হাজার টাকার অবৈধ লেনদেন চলছে প্রকাশ্যে। আরো তাজ্জব ঘটনা, এ নিয়ে পুরসভায় কোথায় কোথায় পার্কিং জোন এবং সেখানে কত টাকা ফি আদায় হবে তার কোনও নোটিশ চোখে পড়ে না। এমনকি এমন কোনও টেন্ডার ডাকা হয়েছে বলেও কারো জানা নেই।

এমন ‘নকল’ রসিদে তোলা আদায় চলছে মাসের পর মাস। নিজস্ব চিত্র।

ঝাড়গ্রাম মেডিকেল কলেজের সামনে ফ্রি কার পার্কিংয়ের ব্যবস্থা করা হয়েছিল শুধু সাধারণ মানুষের সুবিধার্থে। অথচ পুরসভার নাম করে সেখানে নকল রসিদ ছাপিয়ে রমরমিয়ে চলছে তোলা আদায়। চার চাকা থেকে শুরু করে বাইক এমনকি অ্যাম্বুলেন্সের কাছ থেকেও আদায় করা হচ্ছে ঘণ্টা পিছু টাকা।

পুরপ্রতিনিধিদের নাকের ডগায় এমন বেআইনি কাজকর্ম ঘিরে রীতিমতো সরব ভুক্তভোগীরা। বিষয়টি নিয়ে তীব্র প্রতিবাদ সহ প্রসাশনিক  হস্তক্ষেপের দাবি করেছেন ঝাড়গ্রাম জেলার সিটু সম্পাদক পার্থ যাদব।

শুধু পৌরসভার জায়গাতেই নয়, পার্কিং ঘিরে জেলার সদর শহরে অবৈধ ব্যবসা চলছে ব্যক্তিগত মালিকাধীন এলাকাতেও। ১২ নম্বর ওয়ার্ডে রঘুনাথপুর এলাকায় একটি প্যাথলজি, ইউএসজি, সিটি স্ক্যান সেন্টার রয়েছে ব্যাক্তির ঘর ভাড়া নিয়ে। সেই ক্যাম্পাসের মধ্যে সংস্থার ভাড়া নেওয়া জায়গাতেও জোর জবরদস্তি পার্কিং ফি আদায় করা হচ্ছে।

এই স্ক্যান সেন্টারের সামনে পার্কিং ফি আদায়ের বিষয়টি পুরসভা অবধি গড়িয়েছে বলে জানা গিয়েছে। তবে তৃণমূল কংগ্রেস পরিচালিত পুরসভা স্বাভাবিক ভাবেই এই বিষয়ে মুখ খুলতে চায়নি। এবং পার্কিং ফি আদায়কারীদের কাছে কী কাগজ পত্র আছে এমন বিষয়ে জানতে চাইলে তারাও সংবাদমাধ্যমের সামনে মুখ খুলতে চাননি এবং এড়িয়ে যান।

ঝাড়গ্রাম মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতাল হওয়ায়  সাধারণ মানুষের সুবিধার্থেই জেলার সদর শহরের গুরুত্বপূর্ণ প্রান্তে নিঃখরচায় পার্কিংয়ের ব্যবস্থা করেছিল ঝাড়গ্রাম পৌরসভা। এখন সেই জায়গায়  তৃণমূল কংগ্রেস দলের মদত পুষ্ট এক শ্রেণির তোলাবাজ সেগুলি দখল করেছে। ফলে প্রকাশ্যে এমন অবৈধ কারবার রমরমিয়ে চললেও আজ পর্যন্ত কোনও পদক্ষেপ করেনি পৌরসভা থেকে শুরু করে ঝাড়গ্রাম পুলিশ প্রশাসন। ফলে ক্ষোভ বাড়ছে সাধারণ মানুষের মনে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *