ছাব্বিশের ভোটের সুর বাঁধা হয়ে গেল কৃষকদের সমাবেশ থেকেই

নিজস্ব সংবাদদাতা, বর্ধমান: ‘দিল্লিতে নরেন্দ্র মোদী আর পশ্চিমবঙ্গে মমতা ব্যানার্জির সরকারের মনোভাবে ফারাক নেই। কিন্তু কেরালায় বামফ্রন্ট সরকার বিকল্প পথে হেঁটেছে। গরিব মানুষকে কেবল খাদ্যশস্য নয়, অতি গরিব ৯০ লক্ষ পরিবারকে দিয়েছে বিনামূল্যে নিত্যপ্রয়োজনীয় ১৬টি পণ্য। ফলে কেরল আজ দেশের প্রথম অতিগরিব মুক্ত রাজ্য’। আর কয়েক মাস পরেই পশ্চিমবঙ্গে বিধানসভা ভোট। তার আগে বর্ধমানে সারা ভারত কৃষক সভার ৩৮তম রাজ্য সম্মেলনের প্রকাশ্য সমাবেশে বক্তব্য রাখতে গিয়ে এভাবেই বোধহয় বিধানসভা নির্বাচনের সুর’ বেঁধে দিলেন সারা ভারত কৃষক সভার সাধারণ সম্পাদক বিজু কৃষ্ণান। যেখানে বামপন্থীদের কাছে যে তৃণমূল এবং বিজেপি আলাদা নয়, তা বুঝিয়ে দিলন।

বর্ধমানের উৎসব ময়দানে শুক্রবার প্রকাশ্য সমাবেশে কৃষকদের বিপুল উপস্থিতি ও উৎসাহ স্পষ্ট করে দিল যে কর্পোরেটের টাকায় চলা রাজনীতি নয় বাংলা চায় ঘামের দাম পাওয়ার অধিকারটা বুঝে নিতে। দুপুরের পর থেকেই একের পর এক মিছিল ঢুকেতে শুরু করে বর্ধমানে। রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে সমাবেশে আগতদের উপচে পড়া ভিড়ে মাঠ তখন ধামসার তালে যেন পা মেলাচ্ছে।

সমাবেশে আগত বহু সাধারণ কৃষক এক সুরে বলেন—প্রাকৃতিক বিপর্যয়, উৎপাদন খরচের বৃদ্ধি ও ফসলের দাম না মেলায় তাঁরা ঋণের জালে সম্পূর্ণ জর্জরিত। কৃষকবন্ধু ও পিএম-কিষান প্রকল্পের স্বল্প অনুদান, বাস্তব সমস্যার তুলনায় অপ্রতুল। এই সমস্যা থেকে তাঁরা মুক্তি চান। তাই এই সমাবেশে যোগ দিয়েছেন।

সমাবেশে বক্তব্য রাখার সময় সারা ভারত কৃষকসভার নেতা হান্নান মোল্লা কৃষকদের ৩৮৪ দিনের ঐতিহাসিক আন্দোলনের কথা আরও একবার স্মরণ করিয়ে দেন। তিনি পরিষ্কার বলেন, মোদী সরকারের উদাসীনতা ও প্রতিশ্রুতি ভঙ্গের কারণে কৃষকরা আজ অভুতপূর্ব সমস্যার মুখে। বিজু কৃষ্ণানও কেন্দ্র ও রাজ্য—উভয় সরকারের কৃষক-বিরোধী নীতি, কৃষিঋণ ও আত্মহত্যার ভয়াবহ পরিসংখ্যান তুলে ধরেন।

রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আগত কৃষক নেতারা জানান, গ্রামে গ্রামে কৃষক–খেতমজুর–শ্রমিকদের ঐক্যবদ্ধ সংগঠন গড়েই বিকল্প পথ তৈরি করতে হবে। আদানি গোষ্ঠীর গুদাম প্রকল্পের ফলে কৃষিপণ্য বিপণনের অধিকার ক্ষুণ্ন হওয়ার আশঙ্কাও তুলে ধরেন তাঁরা।

সমাবেশের পর রবীন্দ্র ভবনে প্রতিনিধি অধিবেশন শুরু হয়, চলবে ৯ নভেম্বর পর্যন্ত। একের পর এক জেলার প্রতিবেদন পেশ ও নিয়ম মেনে নতুন কমিটি গঠনের প্রক্রিয়া সম্পন্ন হবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *