ব্যুরো রিপোর্ট: ত্রিপুরায় বিজেপি ক্ষমতায় এসেছিল নেশা মুক্ত রাজ্য গড়ার স্লোগান দিয়ে। সেই ত্রিপুরাতে বিজেপি নিয়ন্ত্রিত কেন্দ্রীয় সরকারের রেলে করে প্রায় এক লাখ বোতল নিষিদ্ধ কাশির সিরাপ ঢুকল ত্রিপুরার জিরানিয়া রেল স্টেশনে। ১৬ অক্টোবর গোপন সূত্রে খবর পেয়ে সেই সব নিশিদ্ধ ওষুধ বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে স্টেশন
ত্রিপুরার সরকারি বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, “মাদক পাচারের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে একটি বড় সাফল্য মিলেছে। রেলওয়ে পুলিশ বাহিনী (জিআরপি), শুল্ক বিভাগ এবং বিশেষ টাস্ক ফোর্স (এসটিএফ)একটি যৌথ অভিযান পরিচালনা করে,” ১৬ অক্টোবর বৃহস্পতিবার বিকাল সাড়ে চারটা থেকে শুরু হয় এই মাদক বিরোধী অভিযান। যা চলে প্রায় শুক্রবার ভোর রাত পর্যন্ত। মোট ৯০ হাজার বোতল নিষিদ্ধ কাশির সিরাপ উদ্ধার হয়েছে। থেকে। যার আনুমানিক মূল্য ২ কোটি টাকা।
অভিযোগ ত্রিপুরার এই এলাকায় বিরোধী দল সিপিআইএমকে কার্যত কোণঠাসা করে রেখেছে এলাকার প্রভাবশালী বিজেপি নেতারা। এবং স্টেশনটি কার্যত তাঁদেরই দখলে। ফলে কার্যত অবাধে চলতে পারে মাদক আমদানি। এই মাদক আমদানিতে প্রভাবশালী রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বরা জড়িত রয়েছেন বলে ইঙ্গিত দেওয়া হলেও পুলিশের তরফে এখনও কাউকে গ্রেফতার করা সম্ভব হয়নি।
গোটা বিষয় নিয়ে রাজনৈতিক মহল থেকে সমাজ মাধ্যমে ব্যাপক সমালোচনার মুখে পড়তে হচ্ছে ত্রিপুরার বিজেপি সরকারকে। এই হট্টগোলের মধ্যে, একজন মন্ত্রী, যিনি তার ঘন ঘন সোশ্যাল মিডিয়ায় পোস্টের জন্য পরিচিত, ত্রিপুরাকে মাদকমুক্ত করার লক্ষ্যে এগিয়ে যাওয়ার জন্য মুখ্যমন্ত্রী মানিক সাহাকে অভিনন্দন জানিয়েছেন। যা গোটা বিষয়টি নিয়ে নেটিজেন থেকে সাধারণ মানুষের কাছে উপহাসের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। তবে মূল প্রশ্ন, কার এই মাদক পাচারের পিছনে রয়েছেন, তাঁদের কী আদউ গ্রেফতার করা হবে, সে প্রশ্নের উত্তর সময় দেবে।