নিজস্ব সংবাদদাতা, কেশপুর: সরকার-পোষিত স্কুলে পড়াশোনা বন্ধ রেখে রাজনৈতিক সংগঠনের কর্মসূচিতে জোর করে ছাত্রছাত্রীদের অংশ নিতে বাধ্য করার অভিযোগ উঠল। এই অভিযোগ ঘিরে তীব্র বিতর্ক তৈরি হয়েছে পশ্চিম মেদিনীপুরের কেশপুর এলাকা ও গোটা জেলার শিক্ষা মহলে। ঘটনা ৯ সেপ্টেম্বর, বুধবারের, ওই দিন কেশপুরের আনন্দপুরে রানীয়ড় ক্ষুদিরাম বিদ্যাপীঠ (উঃমাঃ)-এ নবম থেকে দ্বাদশ শ্রেণির ছাত্রছাত্রীদের নিয়ে আরএসএসের ‘যুব সম্মেলন’ অনুষ্ঠিত হয়। গোটা বিষয়টি নিয়ে আগে থেকেই ছাত্রছাত্রী বা অভিভাবকদের অন্ধকারে রাখা হয় বলেও জানা গিয়েছে।
বুধবার অন্য দিনের মতোই স্কুলের পোশাক পরে স্কুলে আসে ছাত্রছাত্রীরা। কিন্তু এসে দেখে, স্কুলের পড়াশোনা বন্ধ করে রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সংঘ (RSS)-এর ‘যুব সম্মেলন’-এর আয়োজন করা হয়েছে। অভিযোগ সেখানে নবম থেকে দ্বাদশ শ্রেণির ছাত্রছাত্রীদের বাধ্যতামূলক ভাবে সামিল হওয়ার নির্দেশ দেন কয়েক জন শিক্ষক। তাঁদের মধ্যে রয়েছেন লক্ষ্মীকান্ত মান্না, প্রকাশ করণ (বিজেপি টিচার্স সেলের কেশপুর ব্লক সভাপতি) এবং উত্তম নস্কর।
অভিযোগ, এই শিক্ষকদের নির্দেশেই শুরু হয় নাবালক-নাবালিকা ছাত্রছাত্রীদের নিয়ে আরএসএসের যুব সম্মেলন। প্রথমে বেশ কিছুক্ষণ প্রখর রোদে দাঁড় করিয়ে ছাত্রছাত্রীদের ব্যায়াম করানো হয়। তার পর পঠনপাঠন বন্ধ করে স্কুলের ক্লাসরুমে তাঁদের দিয়ে অনুষ্ঠানের আয়োজক ও বহিরাগত রাজনৈতিক নেতাদের বরণ করানো হয়। অভিযোগ স্কুলে ছাত্রছাত্রীদের আটকে রেখে লাউডস্পিকারে চলে রাজনৈতিক নেতাদের বক্তব্য। এই কর্মসূচি চলে বিকেল পাঁচটা-সাড়ে পাঁচটা পর্যন্ত।
গোটা বিষয় নিয়ে কয়েক জন অভিভাবক এবং ছাত্রছাত্রী তীব্র অসন্তোষ প্রকাশ করেন। এ ভাবে ইচ্ছার বিরুদ্ধে ছাত্রছাত্রীদের আটকে রেখে রাজনৈতিক কর্মসূচিতে টেনে নামানো চূড়ান্ত অন্যায় হয়েছে বলে ক্ষোভ উগরে দিয়েছেন তাঁরা। অভিযোগের কেন্দ্রে থাকা ওই তিন শিক্ষকের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন অভিভাবকরা।
এই ঘটনায় বামপন্থী শিক্ষক সংগঠন এবিটিএ-র তরফে তীব্র নিন্দা জানানো হয়েছে। সংগঠনের পশ্চিম মেদিনীপুর জেলা সম্পাদক জগন্নাথ খান জানিয়েছেন, রাজ্য তথা দেশের শিক্ষা ব্যবস্থাকে ধ্বংস করে চলেছে আরএসএস। দখল নেওয়ার চেষ্টা করছে ছাত্রছাত্রীদের মস্তিষ্কের। তাঁরা গোটা বিষয়টি নিয়ে প্রশাসনের কাছে অভিযোগ জানাবেন।
বিষয়টি সামনে আসার পর বামপন্থী ছাত্র সংগঠন এসএফআইয়ের পশ্চিম মেদিনীপুর জেলা সম্পাদক রণিত বেরা বলেন, ‘‘এই ধরনের ঘটনা, যা বার বার স্কুল, কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ে ঘটছে, তার মাধ্যমে শিক্ষাঙ্গনকে গেরুয়াকরণের চূড়ান্ত প্রচেষ্টা চলছে। শিক্ষা ব্যবস্থাকে কার্যত ধ্বংস করে সেখানে তোলাবাজি-গুন্ডাগিরির আখড়া তৈরি করছে বিজেপি-আরএসএস।’’ কেশপুরের এই ঘটনার বিষয়ে প্রশাসনে অভিযোগ জানানো হয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি। তাঁর বক্তব্য, দ্রুত এই ঘটনার পিছনে যারা রয়েছেন, তাঁদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। না হলে সারা জেলা জুড়ে দুর্বার ছাত্র আন্দোলন শুরু হবে।