নিজস্ব সংবাদদাতা, ঘাটাল: গ্রেফতারের পরের দিনই জামিন পেয়ে গেলন পশ্চিম মেদিনীপুরে ঘাটালে পুরসভার ১৩ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর তথা প্রাক্তন চেয়ারম্যান বিভাস চন্দ্র ঘোষ। তাঁর বিরুদ্ধে চাকরি পাইয়ের দেওয়ার নামে টাকা তোলার অভিযোগ জমা পড়েছে ঘাটাল থানায়। এছাড়াও তৃণমূল নেতা অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের সই নকল করা ও দলের প্যাড ব্যবহার করে টাকা তোলার অভিযোগও রয়েছে। এই গ্রেফতারি নিয়ে কটাক্ষ কটাক্ষ করতে শোনা গিয়েছে সিপিআইএম এবং বিজেপি তরফে।
বেশ কিছু দিন আগে সোশ্যাল মিডিয়ায় একটি চিঠি ভাইরাল হয়। যেখানে দেখা যাচ্ছে তৃণমূলের প্যাডে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের সই করা একটি চিঠি। সেই চিঠিতে বিভাস চন্দ্র ঘোষকে ঘাটাল পুরসভার চেয়ারম্যান হিসাবে নিয়োগ করা হয়েছে। পরে জানা যায় সেই চিঠিটি জাল। সম্প্রতি সেটি পুলিশের নজরে আসে।
সম্প্রতি ঘাটালের দু বারের প্রাক্তন চেয়ারম্যান বিভাসের বিরুদ্ধে ঘাটালের বাসিন্দা জনৈক কার্তিক জানা লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। সেখানে তিনি অভিযোগ করেছেন, চাকরি পাইয়ে দেওয়ার নামে টাকা নিয়েছেন বিভাস। তার পরই তৎপর হয় পুলিশ। এমন অভিযোগ পেয়ে মঙ্গলবার তাঁকে ঘর থেকে তুলে নিয়ে যায় ঘাটাল থানার পুলিশ। দীর্ঘক্ষণ জিজ্ঞাসাবাদের পর, তাঁর কথায় অসঙ্গতি মেলায় গ্রেফতার করা হয়। তাঁকে গ্রেফতার করে বুধবার ঘাটাল আদালতে তোলা হয়। সেই দিনই ব্যক্তিগত ৫০০ টাকার বন্ডে শর্তসাপেক্ষে জামিনও পেয়ে যান। আগামী ২ সপ্তাহ ঘাটাল থানায় দৈনিক হাজিরা দেওয়ার নির্দেশ দেন বিচারক।
অভিষেকের সই নকলের পাশাপাশি বিভাসচন্দ্রের বিরুদ্ধে চাকরি দেওয়ার নামে একাধিক ব্যক্তির কাছ থেকে টাকা তোলারও অভিযোগ উঠেছে। মঙ্গলবার দুপুরে কার্তিক জানা অভিযোগ করেন চাকরি দেওয়ার নামে তাঁর কাছ থেকে বিভাস ৫ লক্ষ টাকা নিয়েছেন। এ বিষয়ে ঘাটালের এসডিপিও দুর্লভ সরকার বলেন, ‘সুনির্দিষ্ট অভিযোগের ভিত্তিতে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তদন্ত শুরু হয়েছে।’
বিভাসের গ্রেপ্তারির খবর শোনার পরেই শাসকদল তৃণমূলের মধ্যে আভ্যন্তরীন গোষ্ঠী কোন্দল মাথা চাড়া দিয়েছে। শহর জুড়ে শোরগোল চাকরির দেওয়ার নাম করে টাকা তোলার জন্য তৃণমূলের নেতারা অলি-গলিতে লটারির দোকানের মতো ব্যবসা খুলে বসেছে।
তৃণমূলের ঘাটাল সাংগঠনিক জেলার সভাপতি অজিত মাইতি বলেন, ‘উনি কোনও খারাপ চক্রে পড়েছেন। যদি খারাপ কাজ করেই থাকেন তবে শাস্তি পাবেন। পুলিশ অভিযোগ খতিয়ে দেখে যথাযথ ব্যবস্থা নেবে। তবে গোটা বিষয় নিয়ে কটাক্ষ করেছেন ঘাটালের বিজেপি বিধায়ক শীতল কাপাট। দাসপুর ২ ব্লকের সোনাখালিতে একটি দলীয় কর্মসূচিতে যোগ দিয়ে সিপিআইএম নেতা তথা আইনজীবী সব্যসাচী চট্টোপাধ্যায় এই ঘটনাকে কটাক্ষ করে বলেছেন, নিশ্চয়ই দলীয় কোন্দলে গ্রেফতার হয়েছেন বিভাস। না হলে তৃণমূলের নেতা টাকা তোলায় অভিযুক্ত হয়ে গ্রেফতার হবেন এটা আশ্চর্যের। দুর্নীতি এবং তোলাবাজি প্রসঙ্গে তিনি নাম না করে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কেও আক্রমণ করেছেন।