বঞ্চনার প্রতিবাদে তীব্রতর মিড ডে মিল কর্মীদের আন্দোলন, এবার শুরু ব্লকে ব্লকে অভিযান

নিজস্ব সংবাদদাতা, ডেবরা ও চন্দ্রকোনা: মিড ডে মিল কর্মীদের প্রতি সীমাহীন বঞ্চনা ও অবহেলা প্রতিকার চেয়ে এবার শুরু ব্লকে ব্লকে অভিযান। এর আগে রাজ্যের চারশোর বেশি স্কুলে সিআইটিইউ অনুমোদিত পশ্চিমবঙ্গ মিড ডে মিল কর্মী ইউনিয়ন ডেপুটেশন দেয়। পরের ধাপে চলছে ব্লক প্রশাসনকে নাড়িয়ে দেওয়ার অভিযান।

গত মাসেই চন্দ্রকোনা ২ ব্লকে এবং ডেবরা ব্লক অফিসে বিডিও দপ্তরে বিশাল মিঠিল করে কয়েকশো মিড ডে মিল কর্মী মূল ৬ দফা দাবি নিয়ে ডেপুটেশন দেন। সিটুর মিড ডে মিল কর্মীদের এই আন্দোলনের মূল ৬ দফা দাবিগুলি হল, বিদ্যালয়ে তাঁদের চতুর্থ শ্রেণির কর্মীর মর্যাদা দিতে হবে। সমকাজে সমবেতনের সাপেক্ষে ন্যূনতম ২৬ হাজার টাকা বেতন করতে হবে তাঁদের। বছরে ১০ মাস নয় ১২ মাসের বেতন দিতে হবে। দিতে হবে সামাজিক সুরক্ষা সহ সমস্ত ধরনের ছুটির সুবিধা। প্রত্যের রন্ধন কর্মীকে দিতে হবে সচিত্র পরিচয় পত্র। অন্যান্য প্রকল্প কর্মীদের মতো উৎসব ও অবসরকালীন ভাতা দিতে হবে মিড ডে মিল কর্মীদের।  

ডেবরার বিডিও অফিস অভিযানে সামিল হন ব্লকের অর্ধেক অংশের পাঁচশোর বেশি মিড ডে মিল কর্মী। বিক্ষোভ মিছিল ও অবস্থানের জেরে কয়েক ঘণ্টা কার্যত অচল হয়ে পড়ে বিডিও অফিস। বিডিও দপ্তরের গেট দখল করে চলে অবস্থান ও বিক্ষোভ সভা।

এই কর্মসূচিতে সংগঠনের জেলা সম্পাদক অনিমা মন্ডল বলেন, তাঁরা এতই অবহেলিত যে সব চেয়ে কম ভাতায় স্কুলগুলিতে রান্না করে শিশুদের ও প্রসূতি মায়েদের খাওয়ার তুলে দেন কিন্তু তাঁরা এবং তাঁদের পরিবার পড়ে রয়েছেন আর্থিক সংকেটে, অর্ধাহারে।

আমিনা আরও বলেন, বছরে ২ মাস নেই কোনেও ভাতা। নেই ন্যূনতম মজুরীও। তাঁদের ১২ মাসেরই ভাতা দিতে হবে। আপাতত সরকারের ঠিক করা ন্যূনতম দৈনিক মজুরি তাঁদের জন্যও চালু করতে হবে। সামাজিক নিরাপত্তা সহ ভাতা বৃদ্ধির দাবি এবং ন্যুনতম মাসিক ২৬ হাজার টাকা বেতন সহ  মিড ডে মিল কর্মীদের গ্রুপ ডি কর্মীর স্বীকৃতি দেওয়ার দাবি না মিটলে এই আন্দোলন চলবে এবং আরও বৃহত্তর জায়গায় যাবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *