এবিভিপির ঝান্ডা নিয়ে অধ্যক্ষকে ‘ধমকাচ্ছে’ দলবদলু টিএমসিপি নেতা, ক্যাম্পাসে শিক্ষা ও গণতান্ত্রিক পরিবেশ ফেরানোর দাবিতে ডেপুটেশনে এসএফআই!

নিজস্ব সংবাদদাতা, ঘাটাল: রাজ্যে রাজনৈতিক পালাবদল হলেও কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাম্পাসে ছবিটা কার্যত একই রয়েছে। কারণ সুযোগসন্ধানী কিছু ছাত্রনেতা তৃণমূল ছাত্র পরিষদের জামা খুলে এবিভিপির ঝান্ডা তুলে নিয়ে ক্যাম্পাসে একইভাবে গুন্ডাগিরি করছে বলে অভিযোগ। এমনই ছবি পশ্চিম মেদিনীপুরের ঘাটাল রবীন্দ্র শতবার্ষিকী মহাবিদ্যালয়ে দেখা গেল বলে জানা গিয়েছে।

সোমবার এবিভিপির কয়েক জন নেতা কলেজ অধ্যক্ষের ঘরে যান। এবং তাঁদের দাবি, ক্যাম্পাসে তাঁরা এমন কোনও কাজ করবেন না যাতে কলেজের নাম খারাপ হয়। তবে, কলেজে বিরোধী কোনও ছাত্র সংগঠনেরও ঢোকা যাবে না বলে ‘আবদার’ করেন তাঁরা। তাঁদের আবদার, তৃণমূলের ছাত্র সংগঠন বা ভারতের ছাত্র ফেডারেশনের নেতাদেরও কলেজে ঢুকতে দেওয়া যাবে না। এই কথাগুলি উঠে দাঁড়িয়ে যিনি কলেজ অধ্যক্ষকে বলছেন, তাঁর নাম রাহুল। যিনি দিন কয়েক আগে পর্যন্তও তৃণমূল ছাত্র পরিষদের নেতা ছিলেন। পালাবদলের পরই রং বদলে তিনি এখন এবিভিপির নেতা। ফলে কলেজ ক্যাম্পাসে, বিশেষ করে ঘাটাল কলেজে যে দুর্নীতি, অরাজকতা, টাকা নয়ছয়, গুন্ডাগিরির অভিযোগে অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছিলেন সাধারণ ছাত্রছাত্রীরা, সেই ছবি যে অদূর ভবিষ্যতে বদলানোর কোনও আশা নেই, তা বলাই বাহুল্য।

অন্যদিকে স্বাধীনতা, গণতন্ত্র, সমাজতন্ত্রের শ্বেত পতাকা, যা এতদিন তৃণমূল ছাত্র পরিষদের অত্যাচারে কলেজে দেখা যায়নি, তা সোমবার থেকে ফের উড়তে শুরু করেছে। কলেজের গেটে সেই পতাকা লাগানো এবং অধ্যক্ষের কাছে ছাত্রছাত্রী তথা শিক্ষার পরিবেশ ফিরিয়ে আনার লক্ষ্যে একগুচ্ছ দাবি পেশ করেন এসএফআই নেতৃত্ব। এই ডেপুটেশনের নেতৃত্ব দেন পশ্চিম মেদিনীপুর জেলা এসএফআই সম্পাদক রণিত বেরা-সহ অন্যান্য নেতৃত্ব।

এসএফআই নেতৃত্ব যে দাবিগুলি করেছে, সেগুলি হল—

১. বেশ কয়েক বছর ধরে গৃহীত বেআইনি ইউনিয়ন ফি ছাত্রছাত্রীদের ফেরত দিতে হবে। সমস্ত প্রকার ইউনিয়ন ফান্ডের হিসেব ছাত্রছাত্রীদের কাছে প্রকাশ করতে হবে।

২. ছাত্র-সংসদ নির্বাচন না হওয়া পর্যন্ত ছাত্রসংসদ রুম বন্ধ রাখতে হবে। ক্যাম্পাসে গণতন্ত্র ফেরাতে হবে।

৩. ক্যাম্পাসকে বহিরাগত ও দুষ্কৃতীমুক্ত করতে হবে। ক্যাম্পাসের নিরাপত্তা সুনিশ্চিত করতে হবে।

৪. ছাত্রছাত্রীদের ফি-সহ কলেজে যেসব তথাকথিত ছাত্রনেতাদের বিরুদ্ধে চুরি-দুর্নীতির অভিযোগ ছিল, তাদের বিরুদ্ধে উল্লেখযোগ্য পদক্ষেপ নিতে হবে। ক্ষতিগ্রস্ত ছাত্রছাত্রীদের জন্য বিশেষ ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে।

৫. ক্যাম্পাসে ছাত্রীদের শ্লীলতাহানি এবং অপরাধমূলক কাজে যুক্ত ছিল যাদের, তাদের চিহ্নিত করে আইনানুগ ব্যবস্থা নিতে হবে।

৬. ক্যাম্পাসে পঠনপাঠনের স্বাভাবিক পরিবেশ ফেরাতে হবে, নিয়মিত ক্লাস করাতে হবে, মূল্যায়ন ব্যবস্থা উন্নত করতে হবে, ল্যাবরেটরি ও গ্রন্থাগারের আধুনিকীকরণ এবং সামগ্রিক উন্নয়ন করতে হবে।

৭. কলেজের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তে (ফেস্ট, ফ্রেশার্স, উৎসব, সাধারণ সভা) ছাত্র, অধ্যাপক, শিক্ষাকর্মী সকলকে নিয়ে যৌথভাবে আলোচনা করেই সিদ্ধান্ত নিতে হবে।

এসএফআই নেতৃত্বের দাবি, কলেজ প্রিন্সিপাল তাঁদের দাবিগুলির সঙ্গে সহমত পোষণ করেছেন। তিনি জানিয়েছেন, দাবিগুলি যত দ্রুত সম্ভব কার্যকর করার চেষ্টা করবেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *