বাংলাদেশের জামাত ও ভারতের আরএসএসকে এক পংক্তিতে রেখে তীব্র আক্রমণ সিপিআই(এম)-এর

নিজস্ব সংবাদদাতা, মেদিনীপুর, ২৪ ডিসেম্বর: বাংলাদেশে মৌলবাদী হিংসা, সংখ্যালঘু ও প্রগতিশীলদের উপর আক্রমণ এবং এপারে উসকানির ঘটনার বিরুদ্ধে ধিক্কার জানিয়ে, সংখ্যালঘুদের উপর সংখ্যাগুরু মৌলবাদী নৃশংসতা রুখে দেওয়ার আহ্বান জানিয়ে পশ্চিম মেদিনীপুরের মেদিনীপুর শহরে এক বিশাল প্রতিবাদ মিছিল অনুষ্ঠিত হয়। মেদিনীপুরের বিবেকানন্দ মূর্তির পাদদেশ থেকে গান্ধী মূর্তির পাদদেশ পর্যন্ত মশাল জ্বালিয়ে এই প্রতিবাদ মিছিল ও সভা হয়।

সিপিআই(এম)-এর ডাকে আয়োজিত এই কর্মসূচিতে কয়েকশো ধর্মনিরপেক্ষ, গণতান্ত্রিক ও যুক্তিবাদী মানুষ সামিল হন। মিছিলে পা মেলান সিপিআই(এম) জেলা সম্পাদক বিজয় পাল, দলের নেতা সুকুমার আচার্য-সহ জেলা কমিটির সদস্যরা।

সম্প্রতি মুসলিম মৌলবাদীদের হাতে বাংলাদেশে শ্রমজীবী সংখ্যালঘু হিন্দু দীপু দাসের হত্যা-সহ একের পর এক মুক্ত চিন্তার মানুষ, সংস্কৃতির প্রতিষ্ঠান ও সংবাদমাধ্যমের উপর হামলার ঘটনা সামনে আসছে। এই সমস্ত ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়েই এই প্রতিবাদ কর্মসূচি বলে জানায় সিপিআই(এম)। পাশাপাশি এই নৃশংস ও বর্বর ঘটনাগুলিকে হাতিয়ার করে ভারতেও ঘৃণা ছড়ানোর কাজ করছে হিন্দু মৌলবাদী সংগঠন আরএসএস। বাংলাও এই ঘৃণার আগুন থেকে রেহাই পায়নি বলে অভিযোগ সিপিআই(এম)-এর।

হিন্দুত্ববাদীদের উসকানি ও দাঙ্গা লাগানোর চেষ্টার বিরুদ্ধে ধিক্কার জানিয়ে এদিন খড়্গপুর শহরের মালঞ্চ, খরিদা ও ক্ষীরপাইয়ে সিপিআই(এম)-এর ধিক্কার মিছিল ও প্রতিবাদ সভা অনুষ্ঠিত হয়।

মেদিনীপুর শহরের গান্ধী মূর্তির পাদদেশে অনুষ্ঠিত প্রতিবাদ সভায় বক্তব্য রাখেন বিজয় পাল। তিনি বলেন, মৌলবাদ এমন এক শক্তি, যারা দেশের প্রগতি ও মুক্তচিন্তার বিকাশ চায় না। বাংলাদেশের জামাত এবং ভারতবর্ষের আরএসএস—এরা চরিত্রগতভাবে এক। বাংলাদেশে সংখ্যালঘু হিন্দু আক্রান্ত হলে এদেশে সংখ্যাগুরু হিন্দু মৌলবাদের আস্ফালন আরও বাড়ে। আবার ভারতে সংখ্যালঘু মুসলমান আক্রান্ত হলে পাকিস্তান ও আফগানিস্তানে সংখ্যাগুরু মুসলিম মৌলবাদের আস্ফালন বৃদ্ধি পায়। ফলে দুই দেশের মৌলবাদের মধ্যে এক ধরনের প্রতিযোগিতামূলক আস্ফালন দেখা যায়।

কিন্তু বাস্তবে এরা কেউ কারও বিরুদ্ধে লড়ে না। আপস করে একে অপরকে পুষ্ট করে নিজেদের ধর্মীয় জিগির ও মৌলবাদী শক্তিকে বিকশিত করে। যার ফলে সমাজের বিকাশ, মুক্তচিন্তার উন্মেষ, বাকস্বাধীনতা ও বিজ্ঞানমনস্কতা আড়াল হয়ে যায়। মানুষের রুটি-রুজি, শিক্ষা ও স্বাস্থ্য পরিষেবার অধিকার নিয়ে এরা নীরব থাকে। সমাজের সংকট মোকাবিলার আন্দোলনেও এদের কোনও ভূমিকা নেই।

এই সব ধরনের মৌলবাদী শক্তিকে রুখে দিতে এবং মৌলবাদকে ধ্বংস করতে বামপন্থী দল সিপিআই(এম)-সহ সমস্ত গণতন্ত্রপ্রিয়, ধর্মনিরপেক্ষ ও শান্তিপ্রিয় মানুষকে ঐক্যবদ্ধ হয়ে আপসহীন লড়াইয়ে সামিল হওয়ার আহ্বান জানান তিনি।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *