খেতমজুরদের সম্মেলন গর্জে উঠল ১০০ দিনের কাজের দাবিতে, গরিবের দাবি আদায়ে লড়াই জারি রাখার অঙ্গীকার

নিজস্ব সংবাদদাতা, শালবনি: সারা ভারত খেতমজুর ও গ্রামীণ শ্রমজীবী ইউনিয়ন (AIARWU)-এর পশ্চিম মেদিনীপুর জেলা তৃতীয় সম্মেলন অনুষ্ঠিত হল শালবনিতে। সম্মেলনের উদ্বোধন করেন সংগঠনের সর্বভারতীয় সহ-সভাপতি অমিয় পাত্র। সম্মেলনের মঞ্চের নামকরণ করা হয় কমরেড পল্টু সোরেন এবং পল্লীর নামকরণ করা হয় কমরেড সুন্দর হাজরার নামে। সম্মেলনে পর্যবেক্ষণমূলক বক্তব্য রাখেন সংগঠনের সর্বভারতীয় নেত্রী কমরেড বন্যা টুডু।

সম্মেলন উপলক্ষে শালবনির চকতারিণীতে মিছিল ও প্রকাশ্য সভা অনুষ্ঠিত হয়। প্রকাশ্য সভায় বক্তব্য রাখেন অমিয় পাত্র, শ্রমিক আন্দোলনের নেতা বিজয় পাল, সারা ভারত কৃষক সভার রাজ্য সভাপতি মেঘনাদ ভূঁইয়া, সংগঠনের জেলা সম্পাদক চিত্ত পাল প্রমুখ। সভায় সভাপতিত্ব করেন জেলা সভাপতি অমলেশ বসু।

মিছিল শেষে সংগঠনের পতাকা উত্তোলনের মধ্য দিয়ে সম্মেলনের কাজ শুরু হয়। পতাকা উত্তোলন করেন জেলা সভাপতি কমরেড অমলেশ বসু। সম্মেলনের উদ্বোধনী সংগীত পরিবেশন করেন ভারতীয় গণনাট্য সংঘের কৃষ্টি সংসদ শাখা। সম্মেলন মঞ্চ থেকে মাওবাদী-তৃণমূলী নৈরাজ্যবাদী যৌথ শক্তির হাতে নিহত ৬৬ জন শহীদের পরিবারের প্রতি সম্মান জ্ঞাপন করা হয়।

সম্মেলনে সম্পাদকীয় প্রতিবেদন পেশ করেন বিদায়ী জেলা কমিটির সম্পাদক কমরেড চিত্ত পাল এবং আয়-ব্যয়ের হিসাব পেশ করেন কোষাধ্যক্ষ কমরেড সমীর হাজরা। জেলার ২১টি ব্লকের অন্তর্গত ২৫টি ব্লক কমিটি থেকে আগত প্রতিনিধিরা প্রতিবেদনের উপর আলোচনা করেন।

সম্মেলনে মোট সাতটি প্রস্তাব উত্থাপিত হয়। কমরেড অমলেশ বসু, কমরেড সুধাংশু বেরা, কমরেড সুকুমার আচার্য, কমরেড বিমান ভট্টাচার্য, কমরেড সুবোধ রায় ও কমরেড নমিতা হেমব্রম—এই সভাপতি মণ্ডলী সম্মেলন পরিচালনা করেন। ২৫টি ব্লক কমিটি থেকে উপস্থিত ৩৪০ জন প্রতিনিধির পরিচিতি পত্র পেশ করেন প্রসেনজিৎ মুদি।

সম্মেলনকে অভিনন্দন জানিয়ে বক্তব্য রাখেন অভ্যর্থনা কমিটির কার্যকরী সভাপতি কমরেড শ্যাম পাণ্ডে। সম্মেলনে SFI, DYFI, AIKS, CITU, BSPS, AIDWA, আদিবাসী অধিকার মঞ্চ, IPTA, লেখক-শিল্পী সংঘ, ABPTA সহ বিভিন্ন ভ্রাতৃপ্রতিম সংগঠনের নেতৃত্ব উপস্থিত ছিলেন।

সম্মেলন থেকে ৬১ জনের নতুন জেলা কমিটি ও ১৯ জনের সম্পাদক মণ্ডলী নির্বাচিত হয়। সভাপতি নির্বাচিত হন লক্ষ্মীকান্ত ঘোষ এবং সম্পাদক নির্বাচিত হন চিত্ত পাল। সহ-সভাপতি নির্বাচিত হন অমলেশ বসু, সুধাংশু বেরা, সুবোধ রায় ও বিমান ভট্টাচার্য। সহ-সম্পাদক নির্বাচিত হন সমীর হাজরা, প্রসেনজিৎ মুদি, অশ্বিনী পাত্র ও কালিপদ মাণ্ডি। কোষাধ্যক্ষ নির্বাচিত হন গোবিন্দ খান।

সম্মেলন থেকে সময়ের দাবি মেনে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ দাবি তোলা হয়। অবিলম্বে রেগা-র ১০০ দিনের কাজ চালু করা, ২০০ দিনের কাজ ও ন্যূনতম মজুরি ৬০০ টাকা নির্ধারণ, খেতমজুরদের জন্য ৬০০ টাকা মজুরির সরকারি নীতি গ্রহণ, আদিবাসী ও গরিব পাট্টাধারী ও বর্গাদারদের জমি রক্ষা, পঞ্চায়েতের মাধ্যমে সরকারি প্রকল্প থেকে গরিব মানুষকে বঞ্চিত না করা, স্বজনপোষণ ও দুর্নীতি বন্ধ করা, মাইক্রোফিন্যান্স ঋণের জাল থেকে গরিব মানুষকে মুক্ত করা, জাত-পাত ও ধর্মের ভিত্তিতে গরিব মানুষকে বিভাজনের বিরুদ্ধে সংগ্রাম এবং গ্রামের গরিব মানুষের অধিকার রক্ষার দাবিতে আন্দোলন গড়ে তোলার আহ্বান জানানো হয় সম্মেলনে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *