নিজস্ব সংবাদদাতা: তৃতীয় দিনে পা দিল সিপিআইএমের ‘বাংলা বাঁচাও যাত্রা’। যাত্রা যতই এগিয়েছে, কর্মী–সমর্থকদের সঙ্গে সঙ্গে সাধারণ মানুষের ভিড়ও ততই বেড়েছে মিছিলে। যাঁরা মিছিলে হাঁটতে পারেননি, তাঁরাও রাস্তার ধারে দাঁড়িয়ে হাত নেড়ে, স্লোগানে নিজেদের সমর্থন জানিয়েছেন। সকালে ডালখোলা থেকে যাত্রা শুরু হতেই এই ছবিই ধরা পড়ে।
বিকেলে হেমতাবাদের জনসভা দিয়ে শেষ হয় তৃতীয় দিনের পথচলা। সেখানে বক্তব্য রাখেন সিপিআইএম কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য মীনাক্ষী মুখার্জি, রাজ্য সম্পাদকমণ্ডলীর সদস্য পলাশ দাস এবং এসএফআই রাজ্য সভাপতি প্রণয় কার্য্যী। প্রত্যেকেই রাজ্যের জ্বলন্ত সমস্যাগুলি মানুষের সামনে তুলে ধরেন।
সকালে ডালখোলা থেকে শুরু হয়ে যাত্রা এগিয়ে যায় রসখোয়া, বোতলবাড়ি, বিন্দোল ও করণদীঘি হয়ে হেমতাবাদে। প্রথম দু’দিনের মতোই এদিনও সাধারণ মানুষের উৎসাহ ছিল চোখে পড়ার মতো। বক্তাদের বক্তব্যে বারবার উঠে এসেছে যাত্রার মূল ১৮ দফা দাবি—শিল্প, কৃষি, শিক্ষা, চা–বাগান, বন–জঙ্গল, বন্যপ্রাণী, নদী–বাঁধ রক্ষার লড়াইসহ বিভিন্ন জনজীবনের প্রশ্ন। পাশাপাশি ধূপগুড়ির সমাবেশে সাম্প্রতিক প্রাকৃতিক বিপর্যয়ে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের সদস্যরাও এসে নিজেদের অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরেন।
জনসভায় বক্তব্য রাখতে গিয়ে মীনাক্ষী মুখার্জি বলেন, “সব হারা মানুষের পাশে আছে একমাত্র বামপন্থীরা, একমাত্র লালঝান্ডা। আজ সব দিক থেকে বিপর্যস্ত বাংলার প্রাণ ফিরিয়ে দিতে লালঝান্ডার পুনরুত্থান চাই। সেই কাজে চাই আপনাদের সকলকে। তাহলেই বাংলাকে বাঁচানো যাবে। তৃণমূল–বিজেপির আঁতাত থেকে বাংলাকে রক্ষা করা যাবে।”
সিপিআই(এম) রাজ্য সম্পাদকমণ্ডলীর সদস্য পলাশ দাস এসআইআর–এর বিপদ প্রসঙ্গে বলেন, “সুন্দরবনে প্রতি বছর ঝড়ে উড়ে যায় কাঁচা বাড়ি। তাঁদের কাছে নথি চাইলে দিতে পারবে? শহরে কিছু মানুষের হয়তো নথি আছে, কিন্তু শহরের দরিদ্র মানুষ—তাঁদের পক্ষে তিন পুরুষের নথি রাখা সম্ভব?”
প্রণয় কার্য্যী বলেন, “হকের অধিকার আদায়ের জন্য এই যাত্রা। শিক্ষা বিপর্যস্ত, কর্মসংস্থান প্রায় নেই। স্বাস্থ্যব্যবস্থা বিধস্ত। কমবয়সীদের জীবন ছারখার করে দিচ্ছে তৃণমূল ও বিজেপি। যে বয়সে কাজে যাওয়ার কথা ছিল, দায়িত্ব নেওয়ার কথা ছিল, সে বয়সে বেকার হয়ে বসে আছি। আগামী দিনে কী করব, ঠিক নেই।”
এদিকে জেলায় জেলায় প্রতিদিন একাধিক মিছিল হচ্ছে বাংলা বাঁচাও যাত্রার সমর্থনে ও প্রচারে। সাধারণ মানুষ এগিয়ে এসে নিজেদের সমর্থন জানাচ্ছেন। তৃণমূল কংগ্রেসের অপশাসনের অভিযোগ তুলে তা দূর করার দায়িত্ব বামফ্রন্টের কাঁধেই দিতে চান বলে মন্তব্য করেছেন বহু মানুষ।