দিল্লি বিস্ফোরণ পরদিনই মোদীর ভুটান সফর, বিরোধীদের তীব্র সমালোচনা

নিজস্ব সংবাদদাতা: রাজধানীর বুকে এত বড় বিস্ফোরণের পরের দিনই দেশ ছেড়ে বিদেশ সফরে চলে গেলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। যা নিয়ে তীব্র সমালোচনা শুরু হয়েছে গোটা দেশ জুড়ে।  সোমবার সন্ধ্যায় দিল্লির লাল কেল্লা মেট্রো স্টেশনের গেট নং ১–এর কাছে একটি ধীরগতিতে চলা গাড়িতে ভয়াবহ বিস্ফোরণ ঘটে। বিস্ফোরণে এখন পর্যন্ত মৃতের সংখ্যা ৮ এবং আহত অন্তত ১৫ জন। বিস্ফোরণের অভিঘাতে আশপাশে দাঁড়িয়ে থাকা বেশ কয়েকটি গাড়ি আগুনে পুড়ে ক্ষতিগ্রস্ত হয় এবং নিকটবর্তী বাড়িঘরের কাঁচ ভেঙে যায়। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, বিস্ফোরণের শব্দ এমন ছিল যে কয়েক কিলোমিটার দূর থেকেই স্পষ্টভাবে শোনা যায়।

বিস্ফোরণের মাত্র একদিন পরই প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী ভুটান সফরে রওনা দেন। এই মুহূর্তে দেশের রাজধানীতে এমন নিরাপত্তা-চ্যালেঞ্জের মুখে থাকলেও প্রধানমন্ত্রী বিদেশ সফরে যাওয়া নিয়ে রাজনৈতিক মহলে তীব্র সমালোচনা শুরু হয়েছে।
রাহুল গান্ধী বলেন, “রাজধানীতে এত বড় নাশকতার ঘটনায় প্রধানমন্ত্রীকে দেশের মধ্যেই থাকা উচিত ছিল। এটা শুধু তদন্ত নয়, নেতৃত্বের দায়িত্বের বিষয়।”
প্রিয়াঙ্কা গান্ধী সোশ্যাল মিডিয়ায় লেখেন, “দিল্লিতে প্রাণহানির ঘটনায় প্রধানমন্ত্রী নীরব, অথচ বিদেশ সফরে ব্যস্ত — এটি অত্যন্ত দুঃখজনক।”
অরবিন্দ কেজরিওয়াল মন্তব্য করেন, “লাল কেল্লার মতো সংবেদনশীল এলাকায় বিস্ফোরণ মানে গোটা নিরাপত্তা ব্যবস্থার ব্যর্থতা। কেন্দ্রীয় সরকারকে এই দায় এড়ানো চলবে না।”
CPI-M-র পক্ষ এক বিবৃতিতে এই বিস্ফোরণকে “রাজধানীর কেন্দ্রস্থলে কাপুরুষতাপূর্ণ নাশকতা” হিসেবে উল্লেখ করে বলা হয়েছে, “সরকারকে বিষয়টি শিগগিরই খতিয়ে দেখতে হবে এবং সংশ্লিষ্ট সব ষড়যন্ত্রকারীদের আইনের কড়া আওতায় আনতে হবে।”

সোমবার সন্ধ্যায় বিস্ফোরণের পর মুহূর্তেই দমকল বাহিনী, দিল্লি পুলিশ, ন্যাশনাল ইনভেস্টিগেশন এজেন্সি (NIA) ও ফরেনসিক বিশেষজ্ঞদের দল ঘটনাস্থলে পৌঁছে যায়। গোটা লাল কেল্লা–চাঁদনি চক অঞ্চলে কর্ডন গঠন করা হয় এবং তল্লাশি শুরু হয়। ফরেনসিক বিশেষজ্ঞরা ঘটনাস্থল থেকে পাওয়া ধ্বংসাবশেষ ও রাসায়নিক নমুনা সংগ্রহ করেছেন। প্রাথমিক তদন্তে ইঙ্গিত পাওয়া গেছে, এতে স্টিকি বোমা ও উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন ANFO (অ্যামোনিয়াম নাইট্রেট–ফুয়েল অয়েল) জাতীয় বিস্ফোরক ব্যবহারের সম্ভাবনা রয়েছে।

তদন্তকারীদের দাবি, বিস্ফোরণের ধরন পাকিস্তান-সমর্থিত জঙ্গি সংগঠন জইশ-ই-মোহম্মদ–এর আগের হামলাগুলোর সঙ্গে মিলে যাচ্ছে, যা এটি সুপরিকল্পিত জঙ্গি নাশকতা বলেই সন্দেহ তৈরি করেছে।

বর্তমানে চাঁদনি চক–লাল কেল্লা সংলগ্ন অঞ্চলে একটি কড়া নিরাপত্তা বলয় গড়ে দেওয়া হয়েছে। সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ করছেন তদন্তকারীরা, বিস্ফোরিত গাড়িটির রুট ট্র্যাক করা হচ্ছে এবং সম্ভাব্য অভিযুক্তদের শনাক্তকরণ চলছে। বুধবার সকাল অবধি নতুন কোনও বিস্ফোরণ হয়নি, তবে গোটা এলাকা এখনও উন্নত নিরাপত্তা অ্যালার্টে রয়েছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *