নিজস্ব সংবাদদাতা: বিহার বিধানসভা নির্বাচনের প্রথম দফার ভোটগ্রহণ সম্পন্ন হয়েছে মঙ্গলবার, ৬ নভেম্বর। কিন্তু ভোটের দিন রাজ্যের নানা প্রান্তে দেখা গেল এক অন্য চিত্র— বৈধ ভোটার হয়েও অনেকেই ভোট দিতে পারলেন না। অভিযোগ, সম্প্রতি প্রকাশিত SIR-এর তালিকা থেকে বাদ গিয়েছে তাঁদের নাম। ফলে জীবিত, বৈধ ভোটার হয়েও কয়েক হাজার মানুষ ভোটাধিকার থেকে বঞ্চিত হয়েছেন।
এই ঘটনায় রাজ্যজুড়ে তৈরি হয়েছে তীব্র ক্ষোভ। ভোটের দিন সকাল থেকেই একাধিক কেন্দ্রে দেখা যায় হতাশ ও ক্ষুব্ধ মানুষের ভিড়। স্থানীয়দের প্রশ্ন, এত বছর ধরে একই ঠিকানায় বসবাস করা, নিয়মিত ভোট দেওয়া সত্ত্বেও কেন তাঁদের নাম বাদ দেওয়া হল। SIR-এর স্বচ্ছতা ও নিরপেক্ষতা নিয়েই উঠছে প্রশ্ন।
ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ যাওয়া ভোটারদের মধ্যে রয়েছেন ৭০ বছরের ঝুরনা দাস। চার দশক ধরে একই ঠিকানায় বসবাস তাঁর। গত নির্বাচনে ভোটও দিয়েছেন। কিন্তু এ বার নিজের ভোটার কার্ড নম্বর (EPIC) দিয়ে খুঁজলে দেখাচ্ছে, “No Result Found”। তিনি বললেন, “আমি তো প্রতি নির্বাচনে ভোট দিই। এ বার হঠাৎ নামটাই নেই। এটা কেমন বিচার?”
প্রথম দফায় বিহারের মোট ১২১ বিধানসভা আসনে ভোটগ্রহণ হয়। ভারতীয় নির্বাচন কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, এদিন ভোট পড়েছে ৬৪.৬৬ শতাংশ। বিহারের ভোটদানের ইতিহাসে এটি অন্যতম সর্বোচ্চ হার। এর আগে ২০০০ সালে ভোট পড়েছিল ৬২.৫৭ শতাংশ, আর ১৯৯৮ সালে ৬৪.৬ শতাংশ।
তবে এই রেকর্ড গড়া ভোটদানের মধ্যেও একাধিক কেন্দ্রে দেখা গেছে বিশৃঙ্খলার ছবি। বিরোধীদের অভিযোগ, ১৯৬ নম্বর বিহাটা বিধানসভা কেন্দ্রে বহিরাগতদের ডেকে এনে বিজেপির হয়ে ভোট দেওয়ানো হয়। অভিযোগ, স্থানীয় বিজেপি নেতা সুনীল পাণ্ডে ও ইমাদপুর থানার সভাপতি সুমিত কুমার বুথের বাইরে প্রকাশ্যে বসে ভোটারদের প্রভাবিত করছিলেন। প্রায় পাঁচ ঘণ্টা ধরে চলে এই নাটক।
বিরোধী দলের কর্মীরা অভিযোগ করেন, পুলিশকে জানানোর পরও কোনও ব্যবস্থা নেয়নি প্রশাসন। উল্টে বিক্ষোভ দেখাতে আসা বিরোধী কর্মীদের রাইফেল দিয়ে মারধর করে পুলিশ। পরে সাধারণ মানুষ একজোট হয়ে ভোট লুট বন্ধ করেন। ওই ঘটনার সঙ্গে ২৪৩, ২৪৪, ২৪৫, ২৪৬, ২৪৭ ও ২৪৮ নম্বর বুথেও এনডিএ-র প্রার্থীদের বিরুদ্ধে ভোট লুটের অভিযোগ উঠেছে।
বিরোধীদের বক্তব্য, ভোটের দিন এমন বিশৃঙ্খলা ও SIR প্রক্রিয়ার অস্পষ্টতা নির্বাচনের নিরপেক্ষতাকে প্রশ্নের মুখে দাঁড় করিয়েছে। নির্বাচন কমিশনের তরফে এখনও এই অভিযোগের বিষয়ে কোনও আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া মেলেনি।