মোদীর বন্ধু ট্রাম্পের প্রার্থীকে হারিয়ে নিউ ইয়র্কে ইতিহাস গড়লেন ভারতীয় বংশোদ্ভূত ‘কমিউনিস্ট’ জোহরান মামদানি

ডিজিটাল ডেস্ক: ডোনাল্ড ট্রাম্পের আমেরিকায় ইতিহাস রচনা করলেন ভারতীয় বংশোদ্ভূত মুসলিম তরুণ জোহরান মামদানি। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সব থেকে গুরুত্বপূর্ণ শহর নিউ ইয়র্কে মেয়র নির্বাচনে ডেমোক্র্যাটিক প্রার্থী হিসেবে জয়ী হয়েছেন তিনি। এই প্রথম কোনও মুসলিম ও দক্ষিণ এশীয় বংশোদ্ভূত নেতা নিউ ইয়র্কের মেয়রের দায়িত্ব পেলেন। ৩৪ বছর বয়সে এই দায়িত্ব পেয়ে শতবর্ষের রেকর্ড ভেঙে সব চেয়ে কমবয়সী মেয়র হিসেবেও ইতিহাস গড়লেন।

৯১ শতাংশ ভোট গণনা শেষে দেখা যায়, মামদানির প্রাপ্ত ভোট ৫০.৪ শতাংশ। রিপাবলিকান প্রার্থী কুর্টিস স্লিওয়া পেয়েছেন ৭.১ শতাংশ, নির্দল প্রার্থী অ্যান্ড্রু কুয়োমো ৪১.৬ শতাংশ, এবং অন্যান্য প্রার্থীরা মিলে ০.৯ শতাংশ ভোট পেয়েছেন।


জয়ের পর উচ্ছ্বসিত মামদানি বলেন, বন্ধুরা, আমরা একটি রাজনৈতিক রাজবংশকে উৎখাত করেছি।
তাঁর এই মন্তব্যে রাজনৈতিক মহলে আলোড়ন। কারণ এই জয়কে অনেকেই দেখছেন ট্রাম্পের ডানপন্থী রাজনীতির বিরুদ্ধে জনগণের শক্তিশালী জবাব হিসেবে।

ট্রাম্প সরাসরি সোশ্যাল মিডিয়ায় তাঁকে আক্রমণ করেছেন, বলেছেন “কমিউনিস্টদের জয়”। রিপাবলিকান শিবিরে দেখা দিয়েছে অস্বস্তি। অথচ, মামদানির ঝলমলে উপস্থিতি ডেমোক্র্যাট দলের অভিজ্ঞ প্রার্থী অ্যান্ড্রু কুয়োমোর কোটি টাকার প্রচারও ম্লান করে দিয়েছে। প্রথমে মামদানি প্রচারে বেরিয়ে মানুষের কাছে তেমন গুরুত্ব না পেলেও পরে তাঁর চিন্তা ভাবনা নিউ ইয়র্কের পরিশ্রমী মানুষকে প্রভাবিত করে। ধীরে ধীরে তিনি প্রচারে আলোয় উঠে আসেন।  
প্রচারের প্রথম দিন থেকেই তিনি বলেছিলেন, আমেরিকায় ন্যায়, সমতা আর সাশ্রয়ী জীবনের অধিকার ফিরিয়ে আনতেই এই লড়াই। শেষ পর্যন্ত সোশ্যাল মিডিয়ায় প্রচারের জোরেই নিউ ইয়র্কের তরুণ সমাজে তিনি তৈরি করেছেন নিজের এক আলাদা জায়গা।

রিপাবলিকান প্রচারযন্ত্র তাঁকে কটূক্তি, ট্রোল ও “কমিউনিস্ট পাগল” আখ্যা দিয়েছে। এমনকি ডেমোক্র্যাটদের একাংশও তাঁকে অতিরিক্ত বামঘেঁষা বলে মনে করছে। তবুও, জনমুখী ইস্যু— যেমন বাড়িভাড়া নিয়ন্ত্রণ, কর বৃদ্ধি, রেশন ব্যবস্থা ও টিউশন ফি বাতিলের মতো প্রতিশ্রুতি—তাঁকে মানুষের পাশে এনে দিয়েছে।

জোহরান মামদানি চলচ্চিত্র পরিচালক মীরা নায়ার ও শিক্ষাবিদ মাহমুদ মামদানির পুত্র। শৈশব থেকেই রাজনীতি ও সমাজচিন্তায় সক্রিয় তিনি। তাঁর ব্যক্তিগত জীবনের আধুনিকতা ও প্রগতিশীল ভাবনা তাঁকে রক্ষণশীল সমাজের সীমারেখার বাইরে দাঁড় করিয়েছে। স্ত্রী আধুনিক পোশাকে নিজের মত প্রকাশ করেন— যা মামদানির মুসলিম পরিচয়কে ধর্মীয় গোঁড়ামির বদলে উদারতার প্রতীক হিসেবে তুলে ধরেছে।

মেয়র হিসেবে দায়িত্ব নিয়ে মামদানির লক্ষ্য—

  • ২ লক্ষ পাবলিক হাউজিং ইউনিট নির্মাণ,
  • প্রতিটি শিশুর সার্বিক যত্ন ও স্বাস্থ্যসেবা,
  • টিউশন ফি-মুক্ত শিক্ষা,
  • এবং গণপরিবহনে বাসভাড়া প্রত্যাহার।

আগামী ১ জানুয়ারি থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে দায়িত্ব গ্রহণ করবেন তিনি। নিউ ইয়র্কের রাজনৈতিক ইতিহাসে এটি শুধু প্রজন্মের পালাবদল নয়, বরং এক নতুন প্রগতিশীল অধ্যায়ের সূচনা।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *