নিজস্ব সংবাদদাতা, মেদিনীপুর, ৩ নভেম্বর: রাজ্য সরকারের বিরুদ্ধে ই–রিক্সা বা টোটো চালকদের উপর অমানবিক নীতি নেওয়ার অভিযোগে পথে নামলেন পশ্চিম মেদিনীপুরের টোটো চালকরা। সিআইটিইউ অনুমোদিত পশ্চিম মেদিনীপুর জেলা ই–রিক্সা অপারেটর্স ইউনিয়নের পক্ষ থেকে আজ এই বিক্ষোভ কর্মসূচির ডাক দেওয়া হয়।
মেদিনীপুর, ঘাটাল ও চন্দ্রকোনা রোড — তিন জায়গাতেই টোটো চালকদের বিক্ষোভে উত্তাল হয়ে ওঠে এলাকা।
মেদিনীপুর শহরের কালেক্টরেট মোড় এক পর্যায়ে অবরুদ্ধ হয়ে পড়ে দীর্ঘ সময় ধরে।
তিন জায়গাতেই বিক্ষোভে অংশ নেন বেশ কিছু মহিলা টোটো চালকসহ কয়েকশো ই–রিক্সা চালক।
তাঁদের অভিযোগ, বিকল্প কাজ নেই। টোটো চালিয়ে সংসার চলে।
এখন রাজ্য সরকার যে নিয়ম এনেছে, তাতে ২০২১ সালের আগে কেনা টোটোর জন্য প্রতিদিনের ৫০ টাকা হারে চার বছরের জন্য প্রায় ৭০ হাজার টাকা দিতে হবে। না দিলে টোটো চালাতে দেওয়া হবে না।
এটা সম্পূর্ণ অমানবিক। গরিব মানুষের রুটি–রুজির উপর এমন আঘাতের প্রতিবাদে ধিক্কার জানিয়ে তাঁরা পথে নেমেছেন।
ইউনিয়নের পক্ষ থেকে মূল দাবিগুলি তোলা হয় —
- টোটো চালকদের সরকারি স্বীকৃতি দিতে হবে।
- চালকদের সামাজিক সুরক্ষার ব্যবস্থা করতে হবে।
- সব ধরনের হেনস্থা ও হয়রানি বন্ধ করতে হবে।
মেদিনীপুর শহরের বিদ্যাসাগর হল ময়দান থেকে টোটো নিয়ে মিছিল করে জেলা শাসক ও জেলা পরিবহন দপ্তরের সামনে বিক্ষোভ সভা অনুষ্ঠিত হয়।
সিআইটিইউ জেলা সম্পাদক গোপাল প্রামানিক সভায় তাঁর বক্তব্যে অভিযোগ করেন,
“রাজ্যে এখন তোলাবাজ সরকার চলছে। নির্দিষ্ট একটি টোটো সংস্থার কাছ থেকে ৫০০ কোটি টাকা বখরা নিয়ে সেই কোম্পানির টোটো রাজ্যজুড়ে চালানোর সুযোগ করে দিয়েছে তৃণমূল পরিচালিত সরকার।
খেলা–মেলা–উৎসবে কোটি কোটি টাকা দান করছে সরকার, আবার ২৯ হাজার কোটি টাকা নতুন ঋণ নিচ্ছে।
বর্তমানে রাজ্যের মোট ঋণের পরিমাণ প্রায় ৮ লক্ষ কোটি টাকা, যার মধ্যে ৬ লক্ষ কোটির বেশি ঋণ নিয়েছে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকার।
রাজ্যের দেউলিয়া সরকার এখন কোষাগার ভরতে টোটো চালকদের উপর অন্যায়ভাবে আর্থিক বোঝা চাপাচ্ছে।”
তিনি সব টোটো চালকদের আরও ঐক্যবদ্ধভাবে জোরদার আন্দোলনের আহ্বান জানান।
জেলা আরটিও–র নতুন নির্দেশিকা অনুযায়ী —
২০২১ থেকে ২০২৫ সালের মধ্যে ৭০ হাজার টাকার জরিমানার পাশাপাশি,
- রেজিস্ট্রেশন বাবদ ২,২০০ টাকা,
- রোড ট্যাক্স বাবদ ৪,৫০০ টাকা,
- বীমা বাবদ ৬,০০০ টাকা,
- এবং বয়সভেদে লাইসেন্স ফি ২,৫০০ থেকে ৩,০০০ টাকা পর্যন্ত দিতে হবে।
নভেম্বর মাসের মধ্যেই এই প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ করতে বলা হয়েছে।
এই নির্দেশিকার বিরোধিতা করে মহিলা টোটো চালক মামনি রুইদাস ও শ্যামলি দিগার বলেন,
“আমাদের স্বামীরা অসুস্থ। সংসার চালাতে, দু’বেলা খাবার জোগাতে টোটো চালাচ্ছি।
অনেকের মহাজনী ঋণ আছে। এখন এত টাকা আমরা কোথায় পাব?”
চালকদের বক্তব্য, তাঁরা রেজিস্ট্রেশন করতে চান, কিন্তু সরকার যেভাবে অতিরিক্ত টাকা আদায়ের ফরমান জারি করেছে, তা অন্যায় ও অমানবিক।
এই দাবিতে টোটো চালকরা জেলা শাসক দপ্তর ও আরটিও অফিসে বিক্ষোভ ও ডেপুটেশন জমা দেন।
ইউনিয়নের সম্পাদক প্রদ্যোত সরকার বলেন,
“যদি এই সমস্যার দ্রুত সুরাহা না হয়, তবে টোটো চালকরা তাঁদের পরিবার নিয়ে বৃহত্তর আন্দোলনে নামবেন।”
এদিন চন্দ্রকোনা রোডে বিডিও অফিস এবং ঘাটাল শহরে মহকুমা শাসকের দপ্তরেও শত শত টোটো চালক বিক্ষোভ–প্রতিবাদ সভা করে ডেপুটেশন জমা দেন।