৫০০ গরিব পরিবারের ৪০০ একর জমি হাতিয়েছে তৃণমূল, লাল পতাকা হাতে বিক্ষোভে ফেটে পড়ল ঝাড়গ্রাম

নিজস্ব সংবাদদাতা, ঝাড়গ্রাম, ২ নভেম্বর: তৃণমূল নেতা ও স্থানীয় প্রশাসনের যোগসাজশে ৫০০-র বেশি পরিবারের প্রায় ৪০০ একর জমি হাতিয়ে নেওয়া হয়েছে—এমনই বিস্ফোরক অভিযোগ উঠেছে ঝাড়গ্রাম জেলায়। এই অভিযোগে রবিবার সাঁকরাইল ব্লকের রোহিনীতে বিক্ষোভ সমাবেশ জনজোয়ারের আকার নেয়। বিক্ষোভে জমিহারা গরিব মানুষগুলি লাল পতাকা হাতে দাঁতে দাঁত চেপে শপথ নেন—জমি না ফেরালে লড়াই আরও তীব্র হবে।

বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশে নেতৃত্ব দেন সিপিআইএম রাজ্য কমিটির সদস্য শতরূপ ঘোষ, পুলিন বিহারী বাস্কে এবং জেলা সম্পাদক প্রদীপ সরকার।

সাঁকরাইলের পাথরা গ্রামপঞ্চায়েত এলাকার বাঁকড়, পাথরা, চুনাপাড়া ও আঙ্গারনালী—এই চারটি মৌজায় প্রায় মাস দু’য়েক আগে এই প্রতারণার ঘটনা সামনে আসে। জানা যায়, নকল দলিল তৈরি করে প্রান্তিক ৫০০-র বেশি পাট্টাদার ও বর্গাদার পরিবারের প্রায় ৪০০ একর জমি বিভিন্ন সংস্থার নামে হাতিয়ে নেওয়া হয়েছে। অভিযোগ, জীবিতকে মৃত এবং মৃতকে জীবিত দেখিয়ে জাল দলিল তৈরি করে প্রতারণার জাল বোনা হয়েছে। এই ঘটনায় জড়িত শাসকদল তৃণমূল কংগ্রেসের নেতা ও স্থানীয় জমিহাঙ্গররা।

ঘটনা প্রকাশ্যে আসার পর একাধিকবার ঝাড়গ্রাম জেলা প্রশাসন ও ভূমি দপ্তরে অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। জেলা ভূমি দপ্তরের রেজিস্ট্রার ও পাথরা গ্রামপঞ্চায়েতের তৃণমূল কংগ্রেস প্রধানকে গ্রেফতারের দাবিতে আন্দোলন চলছে। কিন্তু প্রশাসন নির্বিকার, ফলে ফলাফল শূন্য। এই অবস্থায় গভীর উদ্বেগে দিন কাটাচ্ছেন ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলি। তাঁদের মধ্যে প্রায় ছ’জন গরিব গ্রামবাসী মানসিক চাপে অসুস্থ হয়ে পড়েছেন।

এই পরিস্থিতিতে রবিবার জমিহারা গ্রামবাসীদের বিক্ষোভ আন্দোলন জনজোয়ারে পরিণত হয়। গ্রাম ভেঙে তিন প্রান্ত থেকে মিছিল এসে মিশে যায় রোহিনীর সমাবেশে।

বিক্ষোভ সভায় বক্তব্য রাখেন সিপিআইএম রাজ্য কমিটির নেতা শতরূপ ঘোষ, পুলিন বিহারী বাস্কে ও জেলা সম্পাদক প্রদীপ সরকার।
শতরূপ ঘোষ বলেন, “কেন্দ্রের বিজেপি সরকারের পাহারায় রাজ্যে তৃণমূল সরকার একশো দিনের কাজের বরাদ্দ, আবাস যোজনার টাকা—সব লুঠ করেছে। তার পরেও এদের শাস্তি না দিয়ে গরিব মানুষের মুখের গ্রাস কেড়ে নিয়েছে বিজেপি, একশো দিনের কাজের টাকা বন্ধ করে।”

তিনি আরও বলেন, “চাকরি চোর, কয়লা–বালি–গাছ পাচারকারী তৃণমূলের রাজত্বে গরিব মানুষের পাট্টা–বর্গা জমিও আজ নিরাপদ নয়। রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীর অধীনে থাকা ভূমি দপ্তরেই সবচেয়ে বেশি দুর্নীতি, যা এখন বাস্তুঘুঘুর বাসা হয়ে উঠেছে।”

শতরূপ প্রশ্ন তোলেন, “নকল দলিলে ৫০০-র বেশি পরিবারের প্রায় ৪০০ একর পাট্টা, বর্গা ও বাস্তু জমি রাতারাতি হাতিয়ে নেওয়া সম্ভব, প্রশাসন ও তৃণমূল যুক্ত না থাকলে?”

সমাবেশ থেকে বিচারবিভাগীয় তদন্ত ও দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি তোলা হয়। জমিহারাদের পক্ষ থেকে ঘোষণা করা হয়—এই লড়াই আরও জোরদার হবে।

পাট্টাদার–বর্গাদার জমিহারা সঞ্জয় মাহাতো, সবিতা মাহাতো, ধনঞ্জয় খামরি প্রমুখরা বিক্ষোভে সামিল হয়ে বলেন, “আমাদের নামে দলিল সরকারকেই করে দিতে হবে। সেই খরচও সরকারকেই বহন করতে হবে।”

গ্রামবাসীদের সমবেত দাবি—“ভুয়ো দলিল বাতিল করে প্রকৃত মালিকদের নামে দলিল ফেরাতে হবে। যাঁরা এই ঘটনায় যুক্ত, তাঁদের প্রত্যেককেই তদন্তের আওতায় এনে আইনত ব্যবস্থা নিতে হবে।”

সভায় সভাপতিত্ব করেন সাঁকরাইল এরিয়া কমিটির সম্পাদক বিবেক মণ্ডল।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *