নিজস্ব সংবাদদাতা, মেদিনীপুর: “জড় নই, মৃত নই, নই অন্ধকারের খনিজ, আমি তো জীবন্ত প্রাণ, আমি এক অঙ্কুরিত বীজ; মাটিতে লালিত ভীরু, শুধু আজ আকাশের ডাকেমেলেছি সন্দিগ্ধ চোখ, স্বপ্ন ঘিরে রয়েছে আমাকে। যদিও নগণ্য আমি, তুচ্ছ বটবৃক্ষের সমাজেতবু ক্ষুদ্র এ শরীরে গোপনে মর্মরধ্বনি বাজে, বিদীর্ণ করেছি মাটি, দেখেছি আলোর আনাগোনাশিকড়ে আমার তাই অরণ্যের বিশাল চেতনা।”-কবি সুকান্ত ভট্টাচার্য
বাংলা কবিতার বিদ্রোহী কণ্ঠস্বর কিশোর কবি সুকান্ত ভট্টাচার্যের জন্মশতবর্ষে তাঁকে স্মরণ করে দাবা প্রতিযোগিতার আয়োজন করলো ভারতের গণতান্ত্রিক যুব ফেডারেশন (DYFI) পশ্চিম মেদিনীপুর জেলা কমিটি। এই প্রতিযোগিতা শুধু খেলার মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়, বরং সুকান্তের আদর্শ — যুক্তি, চিন্তা, সংগ্রাম ও সৃজনশীলতার চর্চাকে তরুণ প্রজন্মের মধ্যে ছড়িয়ে দেওয়ার এক প্রাণবন্ত প্রয়াস।
প্রতিযোগিতার আয়োজনকে সফল করে তুলতে প্রয়াত বিশিষ্ট আইনজীবী রঘুনাথ ভট্টাচার্যের কন্যা আইনজীবী শ্রেয়া ভট্টাচার্য ও তাঁর পরিবার, শিক্ষক সুশান্ত আাঁশ এবং মাস্টার মাইন্ড চেস একাডেমির কর্ণধার শুভম সাহার অবদান অনস্বীকার্য। আয়োজক কমিটির পক্ষ থেকে তাঁদের আন্তরিক ধন্যবাদ জানানো হয়েছে।
এদিন প্রতিযোগিতার আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন ডিওয়াইএফআই জেলা সম্পাদক সুমিত অধিকারী, পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন ডিওয়াইএফআই-এর প্রাক্তন সর্বভারতীয় সম্পাদক তাপস সিনহা, জেলার প্রাক্তন সম্পাদক কমল পলমল, দিলীপ সাউ ও সমর মুখার্জি।সবাই একবাক্যে বলেন, এই ধরনের উদ্যোগ শুধু খেলার মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়, এটি তরুণ সমাজকে চিন্তাশীল, ঐক্যবদ্ধ ও মানবিক করে তোলার এক পথনির্দেশ।”
প্রায় ৫০ জন তরুণ তরুণী এই প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণ করে। প্রত্যেক বিভাগে ৫ জন করে বিজয়ীকে পুরস্কৃত করা হয়। স্কুল থেকে কলেজপড়ুয়া— সবাই মেতে ওঠে সুকান্তের নামে আয়োজিত এই “চিন্তার খেলা”-য়।ডিওয়াইএফআই জেলা কমিটির পরিকল্পনা অনুযায়ী, সুকান্ত জন্মশতবর্ষ উপলক্ষে পুরো জেলা জুড়ে আরও নানা রকম প্রতিযোগিতা ও সাংস্কৃতিক কর্মসূচি নেওয়া হবে। উদ্দেশ্য একটাই — মোবাইল ফোনে বুঁদ হয়ে থাকা ছাত্রছাত্রীদের চেস বোর্ড থেকে খেলার মাঠে ফিরিয়ে আনা। এবং তাদের মধ্যে সুকান্তের মানবতাবাদী আদর্শ জাগিয়ে তোলা।
এই উদ্যোগের মধ্য দিয়ে তরুণ প্রজন্ম উপলব্ধি করছে, “শিক্ষার জন্য, কর্মসংস্থানের জন্য, দেশের জন্য, দশের জন্য লড়াই করতে হয় একসঙ্গে— সুকান্ত সব দিনই তরুণদের জন্য প্রাসঙ্গিক হয়ে থাকবেন।”
সুকান্তের জন্মশতবর্ষে অবশ্যই সময়োপযোগী অভিনব উদ্যোগ।অভিনন্দন🌹