নিজস্ব সংবাদদাতা, নয়াদিল্লি: রাজধানীতে ঝান্ডেওয়ালান মন্দির বুলডোজার দিয়ে গুঁড়িয়ে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে বিজেপি-শাসিত দিল্লি সরকারের বিরুদ্ধে। শনিবার একটি উচ্ছেদ অভিযানের নামে প্রায় ১৪০০ বছর পুরনো হিন্দু মন্দির এবং মন্দির চত্ত্বরের ভিতরে থাকা কয়েকটি বাড়ি ভেঙে দেওয়া হয়। সোশ্যাল মিডিয়ায় এই অভিযোগ তুলে বেশ কয়েকটি ভিডিও ভাইরাল হয়েছে। তবে দিল্লির রাজ্য ও কেন্দ্রীয় প্রশাসনের তরফে বিষয়টি নিয়ে এখনও মুখ খোলা হয়নি। গোটা এলাকা বিশাল টিনের দেওয়াল দিয়ে ঘিরে রাখা হয়েছে, যাতে বাইরে থেকে ভেতরে কিছু দেখা না যায়।
স্থানীয়দের অভিযোগ, মন্দিরের ঠিক সামনেই আরএসএসের সদর দফতর। সেখানে যাতায়াত বা পার্কিংয়ের অসুবিধা হচ্ছিল বলেই কার্যত কোনও নোটিশ ছাড়াই ‘উচ্ছেদ অভিযানের’ নামে হিন্দু মন্দিরটি ভেঙে গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। ভাইরাল ভিডিওতে দেখা যাচ্ছে স্থানীয় সেবায়েত ও ধর্মপ্রাণ মানুষেরা কান্নায় ভেঙে পড়েছেন। পুরো এলাকা বিশাল পুলিশবাহিনী ঘিরে রেখেছে। এই উচ্ছেদ বা ভাঙচুরের কাজটি করেছে দিল্লি মিউনিসিপ্যাল কর্পোরেশন (এমসিডি)। তাদের ‘অ্যান্টি-এনক্রোচমেন্ট ড্রাইভ’-এর অংশ হিসেবেই এই অভিযান চালানো হয়। প্রথমে ঘটনাটি বিশেষ প্রকাশ্যে না এলেও একের পর এক ভিডিও ভাইরাল হতেই পরিস্থিতি নিয়ে তীব্র বিতর্ক শুরু হয়েছে।
প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে—যে হিন্দু মন্দির দেশ গঠনের বহু আগের, তাকে শুধু আরএসএসের কোটি টাকার অফিসের পার্কিংয়ের জন্য কীভাবে ভেঙে গুঁড়িয়ে দেওয়া হল? এক ভাইরাল ভিডিওতে দাবি করা হয়েছে, এটি ‘দেড় হাজার বছর পুরনো গোরক্ষনাথ মন্দির’, যেখানে বহু বছর ধরে অবিরাম রামকথা পাঠ চলে। ভিডিওতে কান্নায় ভেঙে পড়া বহু স্থানীয় বাসিন্দাকে দেখা যায়, যারা প্রশ্ন তুলছেন—“কেন ধর্মীয় স্থাপনা স্পর্শ করা হল?” এবং প্রশাসনের বিরুদ্ধে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করছেন।
স্থানীয়দের অভিযোগ, প্রশাসন সময়মতো কোনও নোটিশ দেয়নি। বেশ কয়েকজন মহিলা বাসিন্দাকে দেখা যায় বুলডোজারের সামনে দাঁড়িয়ে অভিযান থামানোর চেষ্টা করতে। তাঁদের অভিযোগ—“এখানে বহু প্রজন্ম ধরে মানুষ বসবাস করছে, অথচ পুনর্বাসন নিয়ে কিছুই স্পষ্ট বলা হয়নি।”
যদিও এমসিডির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, উচ্ছেদ করা কাঠামোগুলিকে অন্তত ৪৫ দিন আগে নোটিশ পাঠানো হয়েছিল এবং অধিকাংশ বাসিন্দা আগেই জায়গা ছেড়ে দিয়েছেন। কর্তৃপক্ষের দাবি, এলাকাটি ‘বিপজ্জনক এলাকা’ হিসেবে চিহ্নিত হওয়ায় এবং নির্দেশ না মানার কারণে উচ্ছেদ অভিযান চালানো হয়েছে।
তবে এখনও পর্যন্ত এমসিডির তরফে ভাইরাল ভিডিওগুলিতে যে অভিযোগ তোলা হয়েছে, সে সম্পর্কে কোনও মন্তব্য করা হয়নি। বিশেষত মন্দির ভাঙা হয়েছে কি না—তা নিয়েও স্পষ্ট করে কিছু বলা হয়নি। বিষয়টি নিয়ে কার্যত নীরবতা বজায় রেখেছেন কর্মকর্তারা। ফলে গোটা পরিস্থিতিতে আরও জল্পনা ও উত্তেজনা তৈরি হয়েছে।
এমন উচ্ছেদ অভিযান নিয়ে আগেও বিতর্ক তৈরি হয়েছিল। অযোধ্যায় রামমন্দির নির্মাণের সময় জ্যোতির্মঠের আদি শঙ্করাচার্য অভিমুক্তেশ্বরানন্দ সরস্বতী অভিযোগ করেছিলেন—রামমন্দিরের রাস্তা তৈরির জন্য অন্তত ১৫০টি প্রাচীন মন্দির ভেঙে ফেলা হয়েছিল এবং দেবতাদের মূর্তি রাস্তায় পড়ে ছিল।